kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুপক্ষে সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১১ মে, ২০১৮ ০২:২৯



মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুপক্ষে সংঘর্ষ

ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ওই সময় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলের বেশ কয়েকটি রুম ভাঙচুর করে। গত বুধবার রাত দেড়টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল থেকে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের অনুসারী এবং বিজয় গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাংগঠনিক সমপাদক জাহাঙ্গীর আলম জীবনকে সভাপতি করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে সুজনের অনুসারীরা আবাসিক হলে স্লোগান দেয়। এর জের ধরে সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। ওই সময় তারা সোহরাওয়ার্দী, আলাওল, আমানত ও এএফ রহমান হলের ১২টি কক্ষ ভাঙচুর করে। বিজয় গ্রুপের সারোয়ার হোসেন নামের এক কর্মীকে আলাওল হলে মারধর করে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা। ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন আবাসিক হলে থাকা সুজনের অনুসারীদের ধাওয়া দিয়ে ক্যামপাস থেকে বের করে দেয় সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা। তারা ক্যাম্পাসে দেশি অস্ত্র প্রদর্শন এবং মিছিল করে। ওই সময় তারা ‘টাকা দিয়ে কেনা কমিটি মানি না, মানব না’ বলে স্লোগানও দেয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা ‘আসন্ন কমিটি, অবৈধ কমিটি’ স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দফায় দফায় মিছিল করে। 

ক্যাম্পাসে সিএফসি গ্রুপ ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহসভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

রেজাউল হক রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম জীবনকে সভাপতি করা হচ্ছে—এ খবর শুনে সুজনের অনুসারীরা স্লোগান দিতে থাকে এবং আমাদের জুনিয়রদের হল থেকে বের করে দিতে আসে। এ সময় আমাদের জুনিয়ররা তাদের প্রতিহত করে এবং ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।’ 

অন্যদিকে, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে যারা আবাসিক হলে ভাঙচুর করে তারা এখনো ছাত্রলীগের আদর্শ ধারণ করে না। চট্টল বীর মহিউদ্দিন চৌধুরীর সুযোগ্য পুত্র মহিবুল হাসান নওফেল চৌধুরীর নির্দেশে কমিটি হচ্ছে। আর এ কমিটিকে ছাত্রলীগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শিবিররা বানচাল করার পাঁয়তারা করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।’



মন্তব্য