kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

রামুতে সিনিয়র শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি করলেন বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১১ মে, ২০১৮ ০২:২২



রামুতে সিনিয়র শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি করলেন বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক!

কক্সবাজারের রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কিশোরী ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক ছৈয়দ করিমের বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তিনি গত বুধবার বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি করেছেন। এ ছাড়া তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দস্তখত জাল করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে চিঠি চালাচালি করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ রকম জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

গত বুধবার শিক্ষক ছৈয়দ করিমের হাতে লাঞ্ছনা ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষিকা। এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে সংঘটিত এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর পরপরই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে ইউএনও অফিস এবং রামু থানায় ছুটে যান। শিক্ষকরা এই বিতর্কিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান।

ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বহিষ্কৃত শিক্ষক ছৈয়দ করিমের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। সভায় লাঞ্ছনা ও শ্লীলতাহানির শিকার বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা জানান, এর আগে বিভিন্ন সময়ে ছৈয়দ করিম তাঁকে নানা অঙ্গভঙ্গি ও কটূক্তি করতেন। সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিনের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম তদারক করছিলেন। 

এই সময় বহিষ্কৃত শিক্ষক ছৈয়দ করিম আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ে এসে ওই শিক্ষিকার পরনের কাপড়চোপড় ধরে টানাহেঁচড়ার মাধ্যমে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় নিজের সম্ভ্রম ও জানের নিরাপত্তার জন্য তিনি দ্রুত অফিসকক্ষ থেকে শিক্ষক মিলনায়তনে দৌড় দিলে ছৈয়দ করিমও পেছনে তাঁকে ধাওয়া করেন। তখন ছৈয়দ করিম অশ্লীল কথাবার্তার একপর্যায়ে সজোরে তাঁকে ধাক্কা দেন। বিষয়টি স্বচক্ষে দেখে শিক্ষকরা এগিয়ে এলে ছৈয়দ করিম দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। 

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. লুত্ফুর রহমান দুপুরে বিদ্যালয়ে যান। এ সময় তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সুমথ বড়ুয়া নামের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, ‘ইউএনও বিদ্যালয়ে এসে আমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে তুইতোকারি করে কথা বলেছেন। এমনকি মানববন্ধন করলে শিক্ষকদের জেলে নিক্ষেপেরও হুমকি দিয়েছেন।’ বিষয়টি জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের দৃষ্টিতে নেওয়া হলে তিনি জানান, ইউএনওর দুর্ব্যবহারের ব্যাপারটি তিনি দেখছেন।

ওদিকে বিতর্কিত শিক্ষকের হাতে শ্লীলতাহানির শিকার প্রবীণ শিক্ষিকা রামু থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেছেন, পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। এর আগে বিদ্যালয়টির হোস্টেলে থাকা এক কিশোরী ছাত্রীকে ওই শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনা নিয়ে রামু থানায় মামলা থাকার কথা স্বীকার করেছেন রামু থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, নৈতিক স্খলন, শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্যাতন, দলাদলি সৃষ্টি, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি ছৈয়দ করিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। 



মন্তব্য