kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

পতেঙ্গা সৈকতে তাসফিয়ার লাশ

সেই অটোরিকশার নম্বর উদ্ধার হলে জানা যাবে রহস্য!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মে, ২০১৮ ১৭:০২



সেই অটোরিকশার নম্বর উদ্ধার হলে জানা যাবে রহস্য!

স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করতে আজ বৃহস্পতিবার তার বন্ধু আদনান মির্জাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। গাজীপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে তত্ত্বাবধায়কের সামনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এদিকে তাসফিয়াকে বহনকারী অটোরিকশাটির নম্বর এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। নম্বরটির জন্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চীনের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও নম্বরটি উদ্ধার করা যায়নি।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কর্ণফুলী) জাহেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আদনানকে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর প্রাপ্ত তথ্য আদালতকে প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানানো হবে।’

তাসফিয়াকে বহনকারী অটোরিকশার নম্বর উদ্ধার হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশাটি শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু অটোরিকশার পেছনে অন্য গাড়ি থাকায় সেই গাড়ির হেডলাইটের আলো গিয়ে পড়েছে নম্বর প্লেটে। এ কারণে নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কাজে বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিতে ফুটেজ চীনের একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘নম্বর উদ্ধার হলে সেই নম্বরের সূত্র ধরে আমরা অটোরিকশাচালককে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেতাম। তাহলে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেত। তবে নম্বর উদ্ধারে বিকল্প কোনো পথ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গত ১ মে বিকেলে তাসফিয়া তার বন্ধু আদনান মির্জার সঙ্গে বের হয়। পরে তারা গোলপাহাড়ের মোড়ে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে খায়। পরদিন পতেঙ্গা সৈকত এলাকা থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আদনানসহ তার কয়েকজন বন্ধুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন তাসফিয়ার বাবা। মামলায় পুলিশ আদনানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়। গত রবিবার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয় চট্টগ্রামের শিশু আদালতের বিচারক পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌসের আদালতে। শুনানির শেষ পর্যায়ে বিচারক আদনানকে খাস কামরায় ডেকে নেন। পরে আদালত গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

এদিকে নগর পুলিশের একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেছেন, তাসফিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনো আলামত তদন্তকারীরা এখনো পাননি। হত্যার আলামত না পাওয়া মানে কী তাসফিয়া আত্মহত্যা করেছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশ এখন কিছুই বলছে না বা বলবে না। আগে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসুক। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অটোরিকশাচালক, তাসফিয়ার আংটি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার হলে তদন্তের ইতিটানা পুলিশের জন্য আরও সহজ হবে। এখন পুলিশ সেই কাজটি করছে।’

প্রসঙ্গত, নিহত তাসফিয়া আমিন ইংরেজি মাধ্যম সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেণি এবং তার বন্ধু আদনান মির্জা এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মাসখানেক আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্ব হয়। ১ মে তারা নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে সন্ধ্যায় নাস্তা করতে নগরীর গোলপাহাড় এলাকার চায়না গ্রিল নামের একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল। এরই মধ্যে বন্ধুর সঙ্গে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি মায়ের কানে পৌঁছেছে এমন তথ্য জানতে পারে তাসফিয়া। এরপর দ্রুত রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় উঠে। কিন্তু তাসফিয়া রাতে বাসায় ফেরেনি। বাসায় না ফেরায় আদনানসহ তাসফিয়ার বাসার লোকজন রাতে তাকে হন্য হয়ে খোঁজে। পরদিন বুধবার সকালে পতেঙ্গা ১৮ নম্বর ঘাট থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হয়। দুপুরেই তাসফিয়ার পরিবার মরদেহ শনাক্ত করে।



মন্তব্য