kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

তরল গ্যাস নিয়ে জাহাজ 'এক্সিলেন্স' মহেশখালী উপকূলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার    

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০৮:৩০



তরল গ্যাস নিয়ে জাহাজ 'এক্সিলেন্স' মহেশখালী উপকূলে

তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বোঝাই জাহাজ 'এক্সিলেন্স'  গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময় দুপুরেই কক্সবাজারের মহেশখালী উপকুলে এসে পৌঁছেছে। কাতার থেকে এক  লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার বা ৬৫ হাজার টন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে এসেছে জাহাজটি।

এলএনজি আমদানির প্রথম চালান নিয়ে 'এক্সিলেন্স'  নামের জাহাজটি মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের উত্তর পশ্চিম সাগরে এসে পৌঁছায়। জাহাজটি বর্তমানে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থান থেকে আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান করছে। যা সোনাদিয়া দ্বীপের উত্তর প্রান্ত থেকে পশ্চিমে জাহাজের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান জানান, আমেরিকান কম্পানির জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। বিশেষায়িত এই জাহাজে এক লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার বা ৬৫ হাজার টন 'তরল গ্যাস' রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসকে শীতলীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে এলএনজিতে রূপান্তর করা হয়।

'এক্সিলেন্স' জাহাজটিতে এলএনজিকে সমুদ্রের পানির উষ্ণতা ব্যবহার করে আবার প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। জাহাজটির এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তরের দৈনিক ক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। এ জাহাজটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করার কথা রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে উপকূল পর্যন্ত ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের সাবসি (সাগরের তলদেশে) পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য সাত কিলোমিটার। মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ৯১ কিলোমিটার। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ৪৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইনের কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। অপর দুইটি পাইপ লাইনের কাজ সম্পন্নের পথে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় সাতটি এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়নাধী। এর মধ্যে মহেশখালী দ্বীপে চারটি এবং কুতুবদিয়ায় রয়েছে তিনটি এলএনজি প্রকল্প। মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে এক্সিলারেট নামের মার্কিন কম্পানি ১৭৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় সাপেক্ষে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়েছে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বোঝাই 'এক্সিলেন্স' নামের এই জাহাজটি মার্কিন কম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে খালাসের জন্যই এসেছে। এই টার্মিনাল থেকেই পাইপ দিয়ে গ্যাস যাবে জাতীয় গ্রিডে। 



মন্তব্য