kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

পাশবিক নির্যাতনের পর ৯ বছরের ছাত্রীকে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিল দপ্তরি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মার্চ, ২০১৮ ২২:৪৭



পাশবিক নির্যাতনের পর ৯ বছরের ছাত্রীকে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিল দপ্তরি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ বছরের এক ছাত্রীকে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুলটির এক দপ্তরির বিরুদ্ধে। দপ্তরি পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার জন্য ওই ছাত্রীকে ট্যাঙ্কে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ওই ছাত্রী স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। 

রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। তারা অভিযুক্ত দপ্তরি আপন মালি মল্লিককে (৪৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদৌলা রেজা বলেন, বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। 

কাঠিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষা মেলার দায়িত্বে থাকায় আমি স্কুলে যাইনি। তবে স্কুলের শিক্ষকরা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি চমেক হাসপাতালে ছুটে আসি। মেয়েটির মাথাসহ শরীরের কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। 

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় এক ছাত্রীকে হাসপাতালে আনার পর ভর্তি করা হয়। ওই ছাত্রীর স্বজনরা মেয়েটিকে স্কুলের এক দপ্তরি নির্যাতনের পর সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, কয়েকজন এলাকাবাসী স্কুলের দপ্তরি ছাত্রীটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেন। কাটিরহাটের ধলই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য রিজিয়া পারভিন জানান, কাটিরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশাপাশি স্থানে অবস্থিত। তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া তার ভাইকে ভুট্টা দিতে যায়। এ সময় তৃতীয় শ্রেণির আরেক ছাত্রীকে সঙ্গে দেন শ্রেণিশিক্ষক। ভাইয়ের কাছে নিয়ে যাবে বলে আপন নামের এক দপ্তরি ওই ছাত্রীকে দোতলায় নিয়ে যায়।

পরে দপ্তরিকে ফোন করে ওই ছাত্রীর কথা জানতে চাইলে বাড়িতে চলে গেছে বলে জানায়। বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ছাত্রী বাড়ি যায়নি। এমন খবরে ছাত্রীর বাবা স্কুলে ছুটে আসেন। পরে তিনিসহ এলাকাবাসী ছাত্রীকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সেপটিক ট্যাঙ্কের ভেতর থেকে ওই ছাত্রীর গোঙানির শব্দ পেয়ে তাকে উদ্ধারে তার বাবা ট্যাঙ্কে নেমে পড়েন।

রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুল ও এলাকায় বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযুক্ত দপ্তরিকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।



মন্তব্য