kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম যাচ্ছেন ২১ মার্চ

স্মরণকালের বড় জনসভা করতে চায় আ. লীগ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১১ মার্চ, ২০১৮ ০১:৩৮



স্মরণকালের বড় জনসভা করতে চায় আ. লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার বন্দরনগর চট্টগ্রামে আসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ২১ মার্চ দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর।

এর আগে সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা এবং সর্বশেষ গত ৭ মার্চ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় অংশ নিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

চট্টগ্রামের জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, ওই জনসভায় অন্তত পাঁচ লাখ লোকসমাগমের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এত বড় লোকসমাগম আগে কখনো হয়নি। গত তিন দিন ধরে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা হয়েছে।

জনসভায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি লোকসমাগমের লক্ষ্য নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উপস্থিতিতে নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যেৌথ সভা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন লোকসমাগমের ব্যাপারে।

আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সর্বশেষ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নির্বাচনের আগে গত চার-পাঁচটি জনসভায় লোকসমাগমে অতীতের সব ধরনের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি যেখানে সভা-সমাবেশ করছেন সেখানেই এখন মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামছে। মনে হচ্ছে নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে নেত্রীর উপস্থিতিতে এটাই শেষ জনসভা। তাই এই জনসভা অতীতের যেকোনো সমাবেশ-জনসভা থেকে অনেক বেশি লোকের সমাগম হবে।'

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে শুধু দক্ষিণ চট্টগ্রাম নয়, বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিজের কাঁধে উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গত ৯ বছরে চট্টগ্রামে যেসব উন্নয়নকাজ করেছেন তা অতীতের অন্য কোনো সরকারের আমলে হয়নি। দল ও সহযোগী সংগঠনের বাইরে সাধারণ মানুষও জনসভায় আসবে। আমাদের টার্গেট পাঁচ লক্ষাধিক লোকসমাগমের।' দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জনসভা হলেও মহানগর এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও গতকালের বর্ধিত সভা হয়েছে শৃঙ্খলায়। স্থানীয় কোনো নেতার নামে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান না হওয়ায় বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। তা ধরে রাখতে চান আওয়ামী লীগ নেতারা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, '২১ মার্চ পটিয়ার জনসভা সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমাদের জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে। এই জনসভা জনসমুদ্র হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চ পটিয়ায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। জনসভার মধ্য দিয়ে আমরা সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা দিতে চাই এ দেশের জনগণ তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রয়েছে। মানুষের ঢল নামবে।'

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, 'নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা দলকে আরো চাঙা করবে। নির্বাচনের আগে হওয়ায় জনসভায় অনেকে শোডাউন করবে এটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে শোডাউন করতে গিয়ে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে। নগরের প্রতি ওয়ার্ডে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে। নগর থেকে সেখানে যাবে লাখো মানুষ। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে আরেকটি জনসভা করতে পারেন চট্টগ্রাম মহানগরে।'

এদিকে ২১ মার্চ পটিয়ায় জনসভার পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া নগরের বৃহৎ মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর এবারের চট্টগ্রাম সফরে। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক-উপসড়ক এবং বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সংস্কারকাজ চলেছে জোরেশোরে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গত কয়েক দিন ধরে চলছে এসব কার্যক্রম।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সরকারের টানা দুই মেয়াদের মধ্যে গত ৯ বছরে চট্টগ্রাম নগরে সিডিএর মাধ্যমে অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। যেসব প্রকল্পের কাজ কিছুটা বাকি আছে তা নির্বাচনের আগে শেষ করতে রাত-দিন সমানে নির্মাণকাজ চলছে।'

তিনি জানান, প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজের মধ্যে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ মার্চ চট্টগ্রাম সফরকালে তিনটি মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। এসব প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। এ ছাড়া প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় পাঁচ ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই মেঘা প্রকল্পের নির্মাণকাজ তিনি উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে এয়ার পোর্ট পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের এলিভেটেড এক্সপ্রেস ফ্লাইওভার নির্মিত হবে। চাক্তাই-কালুরঘাট সড়ক কাম বেড়িবাঁধ নির্মাণে দুই হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই দুটি নির্মাণকাজ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগর প্রায় এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৫-১৬ মার্চ এসব কাজ সম্পন্ন হতে পারে।'



মন্তব্য