kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টার পর বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০৪:১৩



চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টার পর বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ৩

প্রতীকী ছবি

এক নারীকে ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে ধর্ষণচেষ্টার পর ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার অভিযোগে চট্টগ্রামে এক হাতুড়ে ডাক্তার ও তাঁর ছেলের দুই সহযোগীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর ডবলমুরিং থানার ঝর্নাপাড়া এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান (৫৩) আইএফআইসি ব্যাংকের লালদীঘি শাখায় চাকরি করেন। ঝর্নাপাড়ায় তাঁর একটি ফার্মেসি আছে। সেখানে তিনি স্থানীয় লোকজনের 'চিকিৎসা' করেন।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন মিজানের ছেলের দুই বন্ধু মোহাম্মদ হোসেন (২৫) ও আবদুল কাদের রবিন (২৪)। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এবং হামলার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করেছেন ওই নারী।

এজাহারের বরাত দিয়ে মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ঝর্নাপাড়া এলাকার এক অটোরিকশাচালকের স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী ওই নারী গাইনি সমস্যা নিয়ে বুধবার রাতে মিজানুরের ফার্মেসিতে যান। মিজানুর ওষুধের জন্য ৪০০ টাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে আবার ফার্মেসিতে যেতে বলেন।

ওই নারী ফার্মেসিতে গেলে মিজানুর তাঁকে রোগীর বেডে শুইয়ে একটি ইনজেকশন দেন। এরপর ওই নারীর চেতনা লোপ পেতে থাকে। মিজানুর তখন শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন বলে ওই নারী অভিযোগ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পর তাঁর চেতনা ফিরলে তিনি শরীরে অস্বসি্ত অনুভব করেন। এরপর তিনি জোর করে উঠে পড়েন এবং বাসায় গিয়ে স্বামীকে নিয়ে আসেন।

ওসি বলেন, চেম্বারের ময়লা ফেলার ঝুড়ি থেকে ইনজেকশনের অ্যাম্পুলটি সংগ্রহ করে পাশের আরেকটি ফার্মেসিতে নিয়ে দেখান ওই নারীর স্বামী। সেখানে তাঁদের জানানো হয়, সেটি চেতনানাশক ইনজেকশন। মিজানুর পরে ওই মহিলার বাসায় গিয়ে শাসিয়ে আসেন যাতে তাঁরা কাউকে কিছু না বলেন। এরপর গতকাল শুক্রবার দুপুরে মিজানুরের ছেলে আনিসুর রহমান দলবল নিয়ে ঝর্নাপাড়ায় ওই নারীর বাসায় হামলা চালান। তাদের মারধরে ওই নারীর দুই ভাই আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিজানুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

মিজানুরের ছেলে আনিসুর নগরীর এমইএস কলেজে অনার্সে পড়েন। কলেজের বন্ধুবান্ধব নিয়ে তিনি হামলা চালান বলে পুলিশ জানিয়েছে।


মন্তব্য