kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

মিরসরাইয়ে নদীর পানি পান করে ৫০০ মানুষ!

মোবারকঘোনা গুচ্ছগ্রামের সব নলকূপ অকেজো দীর্ঘদিন ধরে

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০২:৩৩



মিরসরাইয়ে নদীর পানি পান করে ৫০০ মানুষ!

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা গুচ্ছগ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখানে আশ্রিত ৭০টি ভূমিহীন পরিবারের ৪৯০ জন মানুষ পার্শ্ববর্তী ফেনী নদীর পানি পান করে জীবন ধারণ করছে। এর ফলে গ্রামের শতাধিক শিশু পানিবাহী নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা লুত্ফর নেছা, রিজিয়া বেগম ও রেদোয়ান অভিযোগ করেন, ১৯৯৮ সাল নাগাদ উপজেলার ৭০টি ভূমিহীন পরিবারকে মোবারকঘোনা গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় দেওয়া হয়। সে সময় গ্রামে পাঁচটি টিউবওয়েল স্থাপন করে সরকার। পরে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেলে আর মেরামত করা হয়নি।'

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, বর্তমানে পাশ্ববর্তী ফেনী নদীর পানি পান করে কোনো রকম জীবন ধারণ করছে। ইতিমধ্যে গ্রামের কয়েকজন শিশু পানিবাহী নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর এলাকার সমাজকর্মী কামরুল ইসলাম চেৌধুরী নিজের অর্থায়নে গ্রামে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করেন।  

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তত্কালীন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মিরসরাইয়ের ভূমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমিহীনদের শনাক্ত করে মোট ৭০টি পরিবারকে এখানে আশ্রয় দেয়া হয়। সে সময় ৭০টি পরিবারের জন্য  মোট পাঁচটি টিউবওয়েল স্থাপন করে সরকার। বর্তমানে ওই পাঁচটি টিউবওয়েলের মধ্যে মাত্র একটি টিউবওয়েলে পানি সরবরাহ করা যায়। বাকি চারটি নষ্ট। ফলে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে রয়েছে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা।

মোবারকঘোনা গুচ্ছগ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারের দেওয়া চারটি টিউবওয়েল নষ্ট হওয়ার পর তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা টিউবওয়েল কারা সরিয়ে নিয়েছে তা বলতে পারেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকেৌশলী কে এম সাঈদ মাহমুদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মেবারকঘোনা গুচ্ছগ্রামে নষ্ট টিউবওয়েলের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে কেউ এ বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে তা তিনি গুরুত্বসহকারে দেখবেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় ধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের জাহাঙ্গীর ভূইয়ার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি।


মন্তব্য