kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে শিশু মুনতাহার খুনি মা ও তার প্রেমিক!

দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

জাহেদুল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম)   

২ মার্চ, ২০১৮ ০৫:২০



চট্টগ্রামে শিশু মুনতাহার খুনি মা ও তার প্রেমিক!

প্রায় এক বছর আগে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে জুতার বাক্স থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তার মা এবং মায়ের গোপন প্রেমিক মিলে তাকে মাথায়, তলপেটে আঘাত ও শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার শিশুটির মা ও তার প্রেমিকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান খান।

ওই মামলার আইনজীবী সায়েমুর রহমান রিপুল গত রাতে জানান, ২০১৭ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে জুতার বাক্সে তোয়ালে পেঁচানো অবস্থায় শিশু বিনতিজা আলম মারিয়া মুনতাহার মরদেহটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করেছিল স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে শিশুটিকে দাফন করে।

পরে জানা যায়, রাউজানের নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের নাছির মো. চৌধুরী বাড়ির মৃত সামশুল আলমের ছেলে, চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা ওমানপ্রবাসী মো. শহিদুল আলম ও আনিকা আহমদ দম্পতির এক বছর দুই মাস বয়সী একমাত্র শিশু মুনতাহা। সে বছর ৪ মার্চ স্থানীয় একটি দৈনিকে শিশুটির ছবিসহ লাশ পাওয়ার সংবাদ ছাপা হলে মুনতাহার বাবা শহিদুল ওমান থেকে অনলাইনের মাধ্যমে জানতে পারেন ওই শিশুটি তাঁর কন্যা। শহিদুলের পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে ৮ মার্চ দেশে ফেরেন শহিদুল। তিনি বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ হত্যা মামলা (সিআর ১৫০/১৭) দায়ের করেন। এতে তাঁর স্ত্রী পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাড়ৈপাড়া সাইর মো. চৌধুরী বাড়ির আলী আহমদের কন্যা আনিকা আহমদ (২২) ও তার প্রেমিক পটিয়া উপজেলার খরনা ওয়াহেদুর পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে নাজিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ প্রবাসী শহিদুলের সঙ্গে আনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে মুনতাহা জন্ম নেয়। বিয়ের পর আনিকা নাজিমের সঙ্গে আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করে। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় মা ও স্ত্রী-সন্তানকে রেখে শহিদুল ওমানে চলে যান। ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর শিশু কন্যা মুনতাহাকে নিয়ে মা আনিকা বাসা থেকে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় শহিদুলের মা জরিনা বেগম চান্দগাঁও থানায় জিডি করেন। এরপর ২০১৭ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে জুতার বাক্স থেকে পুলিশ উদ্ধার করে শিশু মুনতাহার মরদেহ। পরে শহিদুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী ও নাজিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে এর তদন্তভার পায় পিবিআই।

অ্যাডভোকেট রিপুল আরো জানান, ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, নাজিম ও আনিকা পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে ২০১৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিয়ে করে। তাদের মাঝখানের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য মুনতাহাকে শ্বাস রোধ করে, মাথায় ও তলপেটে আঘাত করে হত্যা করে লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে জুতার বাক্সে তোয়ালা পেঁচিয়ে ফেলে চলে যায়। পিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্ট, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে গতকাল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ আনিকা আহমদ ও নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।



মন্তব্য