kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

তিন হলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২ মার্চ, ২০১৮ ০৫:১৪



তিন হলের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল, এ এফ রহমান ও শাহজালাল হলের শিক্ষার্থীরা। হলগুলোতে থাকে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী। তাদের শঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ শঙ্কার কথা একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরনো ও প্রথম হল হচ্ছে আলাওল। এটি নির্মাণ করা হয়ছ ১৯৬৭ সালে। দীর্ঘদিন সংস্কারের ছোঁয়া না লাগায় এ হলের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব ফাটল দিয়ে পানি পড়ে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাথরুম থেকে চুইয়ে চুইয়ে নিচতলায় পানি পড়ে।
হলের শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ বলেন, দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের ব্লকের বাথরুমে ছাদ চুইয়ে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পানি পড়ে। এর ফলে বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হলগুলো সংস্কার করলে অন্তত পলেস্তারা খসে পড়া ও পানি চুইয়ে পড়া বন্ধ হবে।

১৯৭০ সালে নির্মাণ করা হয় এএফ রহমান হল। সেই হিসাবে ভবনটির বয়স ৪৮ বছর। হলটির দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, ছাদ থেকে খসে পড়ছে মরিচা পড়া রডসহ পলেস্তারা। বিশেষ করে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার বারান্দা দিয়ে হাঁটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হলের অবকাঠামোগত স্থায়ী সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

আর ১৯৭১ সালে নির্মাণ করা হয় শাহজালাল হল। ৪৭ বছর বয়সী এ হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কক্ষ ভাঙচুর হয়েছে বেশ কয়েকবার। এসব কক্ষ দায়সারা সংস্কার করা হলেও খসে পড়া কক্ষের ছাদ, দেয়ালে পলেস্তারা ও ফাটল ভালোভাবে মেরামত করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রকেৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হল তিনটি অনেক দিনের। আর যে নকশার মাধ্যমে হলগুলো তৈরি করা হয়েছে সেই নকশার হল আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। এসব হল যেসব দেশে বৃষ্টি কম হয় সেই দেশের জন্য প্রযোজ্য। কারণ আমাদের দেশে যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। সেই কারণে অতি তাড়াতাড়ি হলের স্থায়িত্ব কমে গেছে। তবে প্রতিবছরই এসব হলে সংস্কারকাজ করা হয়। এবার আরো মজবুত করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলাওল হলের প্রভোস্ট এস এম সালামত উল্যা ভূইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আলাওল হলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পিলারগুলোর বিটের ওপর বিল্ডিং দাঁড়ানো। পিলারগুলোর ভেতর দিয়ে লোহার পাইপ দেওয়া হয়েছিল। পাইপগুলো মরিচা খেয়ে ফেলেছে। এখন এগুলো ভেঙে নতুন করে পূর্ব পাশের দ্বিতীয় তলার ব্লক মেরামত করলে হলের ছাদ ধসে পড়বে। যে কারণে এটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবু সাঈদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রত্যেক হলের প্রভোস্ট যে কাজগুলো অতি প্রয়োজন মনে করছেন সেগুলো আমরা সংস্কার করছি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরনো আলাওল হলের অবস্থা একটু বেশি নাজুক। তাই এটি সংস্কারের জন্য একটা বড় বাজেটের বরাদ্দ দরকার। আশা করি, সামনের বাজেটে এ বরাদ্দ পাস হবে এবং সংস্কারকাজ করতে পারব।'


মন্তব্য