kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

মিয়ানমারে ফেরা এড়াতে শূন্যরেখা ছেড়েছে দুই হাজার রোহিঙ্গা

বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ
প্রত্যাবাসনবিরোধী মহল তত্পর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০১:৫৭



মিয়ানমারে ফেরা এড়াতে শূন্যরেখা ছেড়েছে দুই হাজার রোহিঙ্গা

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া শূন্যরেখা (নো ম্যানস ল্যান্ড) থেকে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গা গতকাল শনিবার অন্যত্র চলে গেছে। জানা গেছে, এই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না গিয়ে কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে প্রবেশ করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রত্যাবাসনবিরোধী দেশি-বিদেশি এনজিওকর্মীদের প্ররোচনায় সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না গিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়। বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শফিউল আলমের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল সীমান্তের শূন্যরেখা পরিদর্শন করে। সে সময় তারা স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়।
গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরুর পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও আরো প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়াকে মিয়ানমারের আন্তরিকতার পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন। কারণ ওই রোহিঙ্গারা তখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। মিয়ানমারের ভূখণ্ডেই অবস্থান করছিল। কিন্তু মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিতে পরিচয় যাচাইয়ের শর্ত দিয়েছে।

এ ছাড়া তাদের মিয়ানমারে ফিরে না গিয়ে শূন্যরেখা পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে মিয়ানমার বাহিনী হুমকি দিচ্ছিল। এ নিয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ বৈঠক হলেও পরে মিয়ানমার পরিচয় যাচাই করে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রচার করে। ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য খালেদা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা প্রায় প্রতিদিন ভোরেই তুমব্রু খাল পার হয়ে পার্শ্ববর্তী কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে প্রবেশ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুপালং শিবিরের একজন রোহিঙ্গা শেড মাঝি গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গত দু-তিন দিন ধরে অনেক রোহিঙ্গা শূন্যরেখা থেকে কুতুপালং শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। প্রত্যাবাসনবিরোধী মহলের প্ররোচনায় অনেক রোহিঙ্গা এ দেশে চলে আসছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাদের মিয়ানমারে ফিরতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।'

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল শূন্যরেখা থেকে কমপক্ষে দুই হাজার রোহিঙ্গা পালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। ঘুনধুম ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গতকাল বিজিবি, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শফিউল আলম বলেন, শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত যাওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐকমত্য হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেলে এ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই এটি ঠেকাতে সবার আন্তরিকভাবে কাজ করা উচিত।


মন্তব্য