kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

মিয়ানমারে ফিরতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা অন্যত্র পালাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৩:২২



শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা অন্যত্র পালাচ্ছে

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু কোনারপাড়া সীমানে্তর শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়া হবে- মিয়ানমারের এই আশ্বাসের পর ওই রোহিঙ্গারা বসি্ত ছাড়তে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত যেৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিনিধিদল ওই শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করে তাদের মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় সেখানকার রোহিঙ্গারা ভয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি ওই রাতেই কমপক্ষে পাঁচ পরিবারের ৩২ জন রোহিঙ্গা বস্তি ছেড়ে গেছে।
ওই রোহিঙ্গারা কোথায় গেছে, রোহিঙ্গা বস্তির নেতারা তা নিশ্চিত না করলেও অনেকেই বলেছে, তারা কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেতে পারে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ জানান, শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা বসি্ত ছেড়ে রাতের আঁধারে শূন্যরেখা ত্যাগ করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে তারা যাতে শূন্যরেখা ত্যাগ করতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী বর্বর নির্যাতন শুরু করলে দলে দলে রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে থাকে। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহায়তা দেয় সরকার। কিন্তু নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্ত দিয়ে আসা প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা তুমব্রু খালের তীরে এসে আটকা পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে তুমব্রু খালের তীরে শূন্যরেখায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ফরিদ আলম (২৮), মৌলভি আরিফ (৩৮) ও নুরুল আমিন (৩৪) জানান, তাঁরা শূন্যরেখায় আশ্রয় নিয়ে যেমন যেতে পারছেন না বাংলাদেশে, তেমনি ফিরতে পারছেন না মিয়ানমারেও। খাবারদাবার পেলেও উভয়সংকটে পড়ে মানবেতর দিন যাপন করতে হচ্ছে তাঁদের।

শূন্যরেখার বস্তি নেতা ওবাইদুল হক (৩৫) জানান, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ-মিয়ানমারের যৌথ প্রতিনিধিদল শূন্যরেখায় এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রতিনিধিদল তাঁদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে বলেছে। এমনকি প্রতিনিধিদল বস্তির পরিবারভিত্তিক তালিকা প্রণয়নেরও নির্দেশ দিয়েছে। এ কারণে বস্তির রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভয় দেখা দিয়েছে।

শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এ বিষয়ে বলছে, যেখানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে, সেখানে শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের কেন আগেভাগে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে? এ ঘটনায় শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

শূন্যরেখার আশ্রয়কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার শঙ্কায় মঙ্গলবার রাতেই আট সদস্যের মোহাম্মদ উল্লাহর পরিবার, আট সদস্যের আবুল আলমের পরিবার, ছয় ছেলে-মেয়ে নিয়ে মৌলভি হানিফের পরিবার, ছয় সদস্যের জাহেদ আলমের পরিবার এবং চার ছেলে-মেয়ে নিয়ে মোবারকের পরিবারের ৩২ জন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়েছে।

রোহিঙ্গা বস্তির নেতারা জানান, শূন্যরেখা থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা একের পর এক বস্তি ছেড়ে পালাচ্ছে।



মন্তব্য