kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ খুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আনোয়ারকে সাময়িক বহিষ্কার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৫:১২



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আনোয়ারকে সাময়িক বহিষ্কার

দিয়াজ ইরফান চৌধুরী। ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর ও সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ কে এম নূর আহমদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর আদালত আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধির ১৫(এ) ধারায় তাঁকে ওই দিন থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো। তবে সাময়িকভাবে বহিষ্কার থাকাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী তিনি ভাতাদি পাবেন।

এর আগে আনোয়ারকে চাকরি থেকে বহিষ্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করে দিয়াজের পরিবার। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় পরবর্তীতে উকিল নোটিশ পাঠান দিয়াজের বোন অ্যাডভোকেট জুবাইদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা।

নিপা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'দেরি করে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনোয়ার হোসেনকে শিক্ষকতা থেকে বহিষ্কার করছে। সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। তবে একজন হত্যা মামলার আসামি কারাগারে থেকেও কিভাবে বেতন-ভাতাদি পায়। তাঁর বেতন-ভাতাদি যেন বন্ধ করা হয়, এ জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই।'

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। উচ্চ আদালতের ২২ সপ্তাহের জামিন শেষে ওই দিন তিনি চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম মুন্সী মশিয়ার রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিজের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানো অবস্থায় দিয়াজের মরদেহ পাওয়া যায়। লাশ ময়নাতদনে্তর পর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবার। পরে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়, যার প্রতিবেদনে বলা হয় দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন দিয়াজের বোন। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।



মন্তব্য