kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

গুম হওয়া ব্যবসায়ী শামীম উদ্ধারের খবর ভুয়া!

পুলিশকেও ধোঁকা দিল প্রতারক

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৫:০৩



গুম হওয়া ব্যবসায়ী শামীম উদ্ধারের খবর ভুয়া!

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দেড় বছর আগে গুম হওয়া গ্যারেজ ব্যবসায়ী শামীম সর্দারের সন্ধান পাওয়ার খবরটি ছিল ভুয়া। একটি প্রতারকচক্র অসৎ উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার থানায় ফোন করে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেয়। আর এ খবর বিশ্বাস করে পুলিশও শামীমের পরিবারকে তাঁর সন্ধানের কথা জানালে আশায় বুক বাঁধে স্বজনরা। তাঁর স্ত্রী পুলিশের কাছ থেকে প্রতারকের মোবাইল নম্বর নিয়ে শামীমের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য পাঁচ হাজার টাকাও পাঠান।

সীতাকুণ্ড থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই ডিবি পরিচয়ে শামীমকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর স্ত্রীসহ আরো সাতজনকে। পরে অন্যদের মুক্তি দিলেও শামীমকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। শামীমের গ্যারেজ থেকে কয়েকটি গাড়িও নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। শামীমকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে বিভিন্ন সময়ে একটি চক্র মোট ১৩ লাখ টাকা নিয়েছে বলে পরিবার জানায়।

শামীমকে এখনো ফিরে না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁর পরিবারের। এ বিষয়ে গত ৪ ডিসেম্বর শামীমের স্ত্রী চম্পা বেগম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ডিবি পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ কয়েকটি দপ্তরের ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শকের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টির প্রতি মনোযোগী হয়ে ওঠে।

ঠিক এ অবস্থার মধ্যে প্রতারকচক্রের একজন গত শুক্রবার বিকেলে সীতাকুণ্ড থানার ল্যান্ডফোনে কল করে অপারেটর মো. শাহাদাতকে বলেন, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রশিদ। শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনের ওপর থেকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছেন তিনি। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হলে কোনোক্রমে নিজেকে সীতাকুণ্ডের ফকিরহাটের শামীম সর্দার বলে পরিচয় জানিয়েছেন। এর বেশি কিছু তিনি বলতে পারেননি। তিনি শামীমের পরিবারের মোবাইল নম্বর চান।

অপারেটর শাহাদাত সীতাকুণ্ড থানার ওসিকে বিষয়টি জানালে ওসি শামীমের পরিবারের তথ্য নিতে সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেনকে নির্দেশ দেন। এরপর অপারেটর শাহাদাত ও এসআই আনোয়ার এ প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সংবাদকর্মীর কাছে বারবার ফোন করে শামীমের পরিবারের তথ্য চান। পরে শামীমের স্ত্রী চম্পা বেগমের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা কথিত ওই জিআরপি ইনচার্জের (প্রতারক) মোবাইলে যোগাযোগ করতে বলেন। চম্পা বেগম সঙ্গে তাঁকে ফোন করেন। প্রতারক তাঁকে বলেন, শামীম সর্দারকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। কিছু ওষুধ জরুরি ভিত্তিতে কেনা প্রয়োজন, তাই কিছু টাকা পাঠালে ভালো হয়। এ কথা শুনে শুক্রবার রাতে প্রতারকের দেওয়া বিকাশ নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান চম্পা বেগম। পাশাপাশি দুই আত্মীয়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠান।

কিন্তু এর পর থেকে ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ওই হাসপাতালে গিয়েও শামীমের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। শামীমের স্ত্রী চম্পা বেগম গতকাল এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানান। এটি যে একটি প্রতারকচক্রের কাজ, এ কথা স্বীকার করেছেন সীতাকুণ্ড থানার এসআই আনোয়ারও। তিনি বলেন, 'জিআরপি ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিচয়ে থানার টিঅ্যান্ডটি নম্বরে যে ফোন করেছিল আসলে সে ছিল একজন প্রতারক। কিন্তু থানায় ফোন করে কেউ এমন করতে পারে তা আমরা ভাবতে পারিনি। তাই তার কথা বিশ্বাস করে শামীমের পরিবারকে খবর দিয়েছিলাম।'


মন্তব্য