kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

দেড় বছর গুম থাকার পর হদিস

সীতাকুণ্ডের সেই শামীম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বি-বাড়িয়ায় উদ্ধার

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৩:১৮



সীতাকুণ্ডের সেই শামীম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বি-বাড়িয়ায় উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট থেকে দেড় বছর আগে অপহৃত গ্যারেজ ব্যবসায়ী শামীমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেললাইনের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পরে তারা শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থানায় খবর পাঠালে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের ফকিরহাটস্থ শামীম সর্দারের গ্যারেজের সামনে মাইক্রোবাসযোগে বেশ কিছু লোক এসে নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে শামীমসহ সাতজনকে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে শামীম অসুস্থ বলে খবর পাঠানো হয় তাঁর স্ত্রী চম্পার কাছে। চম্পা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও একই গাড়িতে তুলে ঢাকায় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে নানা কৌশলে চম্পাসহ অন্যদের মুক্তি দেওয়া হলেও শামীমকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়। একই সময়ে শামীমের কথা কাউকে জানালে তাদের ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ শামীমের স্ত্রী চম্পার।

তিনি আরো জানান, সে ঘটনার পর শামীমকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ডিবির কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছ থেকে দুই দফায় ১৩ লাখ টাকা ও গ্যারেজ থেকে একাধিক গাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু গত এক বছরেও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর শামীমের স্ত্রী চম্পা বেগম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে গতকাল সকালে শামীমের সন্ধান পাওয়া যায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সীতাকুণ্ড থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রশিদ সীতাকুণ্ড থানায় ফোন করে জানান, দেড় বছর আগে নিখোঁজ হওয়া শামীমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কে বা কারা রেললাইনের ওপর ফেলে যায়। সকালে এ অবস্থায় তাঁকে দেখে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান। কিছুটা কথা বলতে সক্ষম হওয়ার পর শামীম নিজের নাম-পরিচয় জানালে সীতাকুণ্ডের সাংবাদিকদের সহযোগিতায় শামীমের স্ত্রী চম্পা বেগমের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁকে শামীমের সন্ধান পাওয়ার কথা জানানো হয়। খবর শুনে রাতেই তাঁর আত্মীয়-স্বজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়।

শামীমের স্ত্রী চম্পা বেগম জানান, গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড থানা থেকে তাঁকে ফোন করে তাঁর স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে জানায়। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফাঁড়ির যে মোবাইল ফোন থেকে যোগাযোগ করে তাঁকে যেতে বলা হয়েছে সেটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তিনি কিভাবে সেখানে গিয়ে স্বামীর হদিস পাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাছাকাছি থাকা কিছু আত্মীয়-স্বজনকে ওই হাসপাতালে খোঁজ নিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। নিশ্চিত হলে তিনিও সেখানে স্বামীর কাছে যাবেন।



মন্তব্য