kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

টেকনাফে ইয়াবার চালান নিয়ে দিনভর তুলকালাম

বিজিবি আটক করেছে ৩ লাখ ইয়াবা বড়ি চালানে ছিল ১৬ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৩:১২



টেকনাফে ইয়াবার চালান নিয়ে দিনভর তুলকালাম

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে গতকাল শুক্রবার দিনভর তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। খালাসের দায়িত্বে থাকা এক ইউপি সদস্যসহ দুই ব্যক্তিকে মারধর করেছে পাচারকারীরা। চালানে ছিল ১৬ লাখ ইয়াবা বড়ি। কারো কারো মতে, পরিমাণ ছিল আরো বেশি। চালানটি বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের মুণ্ডারডেইল নেৌঘাটে খালাস করা হয়। এই চালানের কিছু অংশ বিজিবি সদস্যরা আটক করলেও আরো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি গায়েব হয়ে যায়। পরে গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে সাড়ে আট লাখ ইয়াবা বড়ি ফেরত দেওয়া হয় পাচারকারী পক্ষকে। আরো কয়েক লাখ ইয়াবা বড়ি গায়েব থাকা নিয়ে সীমান্তে পাচারকারী দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইয়াবার চালানটি নিয়ে টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, বিজিবি সদস্যরা তিন লাখ ইয়াবার চালান উদ্ধার করেছে। তবে ওই সময় পালিয়ে গেছে তিন পাচারকারী।

টেকনাফ থানার ওসি বলেন, ইয়াবার চালানটি নিয়ে এক ইউপি মেম্বারসহ দুই ব্যক্তিকে আটকে ব্যাপক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে উদ্ধার করেছে ওই দুজনকে।

এলাকার লোকজন জানায়, টেকনাফ সীমান্তের সাবরাং ইউনিয়নের মুণ্ডারডেইল নৌঘাট দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ১৬ লাখ ইয়াবার একটি চালান খালাস করা হয়। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলেন মুণ্ডারডেইল গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবরাং ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন দানু ও জয়নাল আবেদীন। নৌঘাটে খালাসের নিয়ম মতে টেবলেটপ্রতি এক টাকা করে ১৬ লাখ টেবলেটের জন্য চুক্তি হয় ১৬ লাখ টাকায়।

সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি আজ (শুক্রবার) সারা দিনই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি ইয়াবার বড় চালান পাচারের ঘটনাটি নিয়ে। এই চালান পাচারের সঙ্গে জড়িত আমার একজন ইউপি মেম্বারসহ দুই ব্যক্তি বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ায় এই দুইজন প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।'

সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ইয়াবার চালানটির মালিক হচ্ছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার হাজি ফজলের ছেলে একরামুল হক। ইয়াবাকারবারি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত একরামের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচারের আটটি মামলা রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান. মুণ্ডারডেইল নৌঘাটে চুক্তি নিয়ে পাচারের ইয়াবা খালাসের কাজ করেন ইউপি মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন দানু ও জয়নাল আবেদীন।

জানা যায়, একরামুল হকের ১৬ লাখ ইয়াবা চুক্তি অনুযায়ী খালাস করা হয়। একই সময় বিজিবি সদস্যরা একই নৌঘাট থেকে আটক করেন তিন লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান। রাতে নৌঘাটে খালাস করা ইয়াবার চালান বুঝে নিতে গেলে খালাসের দায়িত্ব নেওয়া ইউপি মেম্বার দানু ও জয়নাল ইয়াবার মালিক একরামকে সকালে মাত্র তিন লাখ ইয়াবা দেন। বাকি ১৩ লাখ ইয়াবা বিজিবির অভিযানের সময় খোয়া যাওয়ার কথা বলতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একরামের লোকজন কৌশলে দানু ও জয়নালকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভীরপাড়ায় ধরে নিয়ে যায়। এরপর একরামের ঘরে দুজনকে রশি দিয়ে বেঁধে বেদম মারধর করা হয়। মারধরের মুখে দানু ও জয়নাল সাড়ে আট লাখ ইয়াবা বের করে দেন। বাকি ইয়াবার মূল্য পরিশোধ করা হবে মর্মে একরামের কাছে ব্যাংকের চেক দেওয়া হয়। ততক্ষণে টেকনাফ থানা পুলিশ গিয়ে মৌলভীরপাড়ার একরামের ঘর ঘিরে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে।

টেকনাফ থানার ওসি মো. মাঈনুদ্দিন খান গত রাতে বলেন, 'ইয়াবার চালান নিয়ে দুই পক্ষে বিরোধ হয়েছে। খবর পেয়ে ইউপি মেম্বারসহ জয়নালকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ একরামের ঘরেও হানা দেয়। কিন্তু ততক্ষণে একরাম ও ইউপি মেম্বারসহ অন্যরা পালিয়ে গেছে।'

টেকনাফে বিজিবি তিন লাখ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান আটক করার কথা জানিয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। ওই পরিমাণ ইয়াবার মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। মিয়ানমার থেকে সাগরপথে ইয়াবার চালানটি ঢোকার সময় টেকনাফের সাবরাং উপকূলের মুণ্ডারডেইল এলাকায় চালানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফের ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধীন সাবরাং বিওপির নায়েক সুবেদার মো. লাল মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ইয়াবার চালানটি আটক করে।

বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম জানান, টহল দলের সদস্যরা সাগরের কিনারা দিয়ে একটি নৌকা আসতে দেখেন। নৌকাটি মুণ্ডারডেইল ঘাটে এসে থামে। এরপর নৌকার তিন ব্যক্তি তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে ঘাটে নামামাত্রই টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। ওই সময় নৌকাটি অতি দ্রুত সাগরের দিকে চলে যায়। ইয়াবা পাচারকারীরা তাদের মাথায় থাকা বস্তাগুলো ফেলে দৌড়ে পালায় পার্শ্ববর্তী গ্রামের ভেতর। পরে টহল দল ইয়াবা পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বস্তাগুলো খুলে তিন লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পেয়েছে।


মন্তব্য