kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ডে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ছেলেকে হত্যা

চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পলাতক থেকেও বাদীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে আসামিরা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০১:১৩



চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা না পেয়ে তাঁর ছেলেকে গুলি করে হত্যার মামলায় চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঘটনার ১৩ বছর পর মামলার রায় দেওয়া হলো। মামলার আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে।

যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামিরা হলো, সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের নিউ রাজাপুর গ্রামের সুলতান আহমেদের ছেলে মো. আলমগীর, জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. লোকমান, আবুল হোসেনের ছেলে জামাল উদ্দিন ও মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে মো. নাজেম।

এদিকে পলাতক থাকলেও আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এক আসামি বুধবার নিহতের ছোট ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে নিহতের পরিবার নতুন করে আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৮ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বড়কুমিরা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাবুল কান্তি ধর দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় এক দল অস্ত্রধারী তাঁর গতি রোধ করে তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মচারীকে মারধর শুরু করে। এ সময় বাবুল চিত্কার শুরু করলে কাছেই তাঁর বাড়ি থেকে তাঁর ছেলে সুমন ধর বের হয়ে আসেন। তাঁকে দেখেই সন্ত্রাসীরা গুলি করলে ঘটনাস্থলেই সুমন মারা যান।

ঘটনার পর বাবুল জানান, ওই সন্ত্রাসীচক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে চাঁদা চেয়ে আসছিল। তাদের চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে বাবুল থানায় একটি হত্যা মামলা ৮(৭) ২০০৫ ইং দায়ের করেন। এতে আসামিদের অজ্ঞাতপরিচয় উল্লেখ করা হলেও পরে পুলিশ তদন্ত করে আলমগীর, লোকমান, জামাল ও নাজেমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

চট্টগ্রামের তৃতীয় জেলা ও দায়রা জজ মুন্সী আবদুল মজিদ ওই চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে আরো ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় প্রকাশের পর এলাকার বহু মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তবে নিহত সুমনের ছোট ভাই সুজন ধরকে এক আসামি হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুজন ধর বলেন, ‘গতকাল বিকালে অজ্ঞাতপরিচয় এক আসামি মোবাইলে ফোন করে আমার পরিণতিও দাদার মতো হবে বলে হুমকি-ধমকি দিয়েছে।’ তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

বাবুল ধর বর্তমানে বেঁচে নেই। সুজন জানান, তাঁর বাবা রায় দেখে যেতে পারেননি বলে আফসোস হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন মামলা চলার পর অবশেষে রায় হলো। ধারণা করেছিলাম, আসামিদের ফাঁসি হবে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন দিয়েছেন। এতেই আমরা খুশি।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাহিম শরীফ খান জানান, আসামিরা পলাতক রয়েছে। এ সুযোগে তারা নিহত সুমনের ভাইকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।



মন্তব্য