kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

রাউজানে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার ইউপি সদস্য

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৩:১৪



রাউজানে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার ইউপি সদস্য

চট্টগ্রামের রাউজানে দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তা ফেরত দিতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার ডাবুয়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে। পিটুনির শিকার মিটু শীল ওরফে মিটু মেম্বার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

ডাবুয়া ইউনিয়নের রেৌশন গোমস্তার বাড়ির সৌদি আরবপ্রবাসী পাবেলের স্ত্রী রিনা আকতার বলেন, 'আমি বাবার বাড়িতে থাকি। জগন্নাথহাট বাজারে কেনা জমিতে বসতঘর তৈরির জন্য সাত-আট দিন ধরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ করছিল রাজমিস্ত্রিরা। গত ২৭ জানুয়ারি রাতে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হোসেন রেজা ওই জায়গা পরিদর্শন করেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ইউএনওর কার্যালয়ে গেলে তিনি বলেন, 'আপনাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। নির্মিত দেয়াল তথা স্থাপনাও ভেঙে ফেলতে হবে। নইলে জেলে যেতে হবে।' সে সময় মেম্বার মিটু আমাদের সঙ্গে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আমাদের রুম থেকে বের হয়ে যেতে বললে আমরা বারান্দায় অপেক্ষা করি। ১৫ মিনিট পর মিটু মেম্বার বেরিয়ে এসে বলেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আড়াই লাখ টাকা দিতে হবে।'

রিনা আক্তার বলেন, '২৯ জানুয়ারি রাত ৮টা নাগাদ মিটু ফোন করে বলেন, 'হাতে সময় আর নেই, জলদি টাকা নিয়ে আসো।' আমি চাচাতো ভাই রুবেল, ভাতিজা ওসমান ও বোনের ছেলে জাহেদকে নিয়ে জগন্নাথহাট বাজারে মেম্বার মিটু শীলকে দুই লাখ টাকা দেই। এই ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ইউএনওকে বিষয়টি জানায়। এরপর আজ (গতকাল) মঙ্গলবার সকালে উপজেলা অফিস থেকে আমাকে ফোন করে জানতে চাওয়া হয় টাকা দিয়েছি কি না। আমি হ্যাঁ বলার পর ইউএনও বলেন, 'আপনি টাকা ফেরত নিন।' এর কিছুক্ষণ পর মেম্বার মিটু শীল আমার নম্বরে ফোন করে বলেন, 'একটু ইউনিয়ন পরিষদে আসেন, টাকাগুলো নিয়ে যান।' আমি বললাম, টাকা আমি একা নিতে পারব না। দেওয়ার সময় যারা ছিল তাদের লাগবে। এরপর আমরা সবাই মিলে পাশের দীঘির পাড়ে যাই। তখন এলাকাবাসী তার কাছে জানতে চায় টাকা নিয়েছে কেন? কিন্তু মেম্বার মিটু কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে উত্তেজিত কিছু নারী-পুরুষ তাকে মারধর করে আটকে রাখে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।'

এদিকে ঘটনা জানাজানির পর রাউজান থানার এএসআই আবদুস সালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘুষ প্রদানকারী ওই নারী ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।

এলাকার বাসিন্দা মোরশেদুল আলম বলেন, 'ইউপি সদস্য মিটু শীল মহিলার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ায় আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানাই। এরপর ইউএনও টাকা ফেরত দিতে মেম্বারকে বাধ্য করেন।'

এ প্রসঙ্গে ইউএনও শামীম হোসেন বলেন, 'কৃষিজমি ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে বাড়ি নির্মাণ করায় ওই নারীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরদিন টাকা পরিশোধ করার কথা বলে তাকে মেম্বারের জিম্মায় ছেড়েছিলাম। কিন্তু ইউপি সদস্য মিটু শীল প্রতারণা করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন। বিষয়টি জেনে টাকা ফেরত দিতে মিটু শীলকে বাধ্য করি। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ ব্যাপারে মিটু শীলের কাছে জানতে চাইলে তিনি পুরো ঘটনার দায়ভার স্বীকার করে বলেন, 'আমি এক ধরনের চক্রান্তের শিকার হয়েছি।'



মন্তব্য