kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

প্রার্থী নিয়ে বিভক্ত আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:৫৩



প্রার্থী নিয়ে বিভক্ত আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর বিভক্তি স্পষ্ট হয় এবং তা সামাল দিতে ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী নেতারা গতকাল রবিবার দিনভর চট্টগ্রামে বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠকে দুজন প্রার্থীর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা যায়নি। তাই তৃতীয় একজনকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্র্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল বিকেল পর্যন্ত সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের বৈঠক চলে। বৈঠকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও সদস্যসচিব ফজলে নূর তাপস উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে বার কাউন্সিলের সদস্য ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

বৈঠকের সদ্ধিানে্তর বিষয়ে প্রবীণ আইনজীবী ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে দুজন প্রার্থী হওয়ার কারণে আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। শেষে উত্তম কুমার দত্তকে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

আইনজীবীরা জানান, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ ও সাবেক জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল হাশেম প্রার্থী হয়েছেন। তাই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নেতারা এ বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে আলোচনার সময় তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না। শেষে তৃতীয়জনের নাম ঘোষণা করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, চেম্বার বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। আবার সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই আবুল হাশেম নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই তৃতীয়জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'কেন্দ্রীয় নেতারা তৃতীয়জনের নাম প্রস্তাবের পক্ষে কথা বলায় আমি উত্তম কুমার দত্তের নাম প্রস্তাব করেছি। অন্যরা এটা সমর্থন করেছেন।'

মূলত, চেম্বার বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। এমতাবস্থায় গত ১৫ নভেম্বর সমন্বয় পরিষদ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করেছিল। এতে সভাপতি পদে ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হানিফের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই তাঁরা প্রচার চালাচ্ছিলেন। এর মধ্যে আবু হানিফের নাম প্রস্তাবের পর একটি অংশ মেনে না নেওয়ায় আবুল হাশেমের নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপর দুজনই প্রচার চালাতে থাকেন। শেষে শীর্ষ আইনজীবীরা হস্তক্ষেপ করায় তৃতীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলো।

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু হানিফ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'চেম্বার নিয়ে আমি বাণিজ্য করিনি। বাণিজ্য করতে অন্যদের সুযোগ দিইনি বলেই এসব অভিযোগ তুলছে।' তিনি বলেন, 'আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।'

তবে আবুল হাশেম ফোনে সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হবে। আজ সোমবার ২২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।


মন্তব্য