kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

ইউএনও-এএসপির সঙ্গে ওসির 'দ্বন্দ্ব', তোলপাড় চলছে মানিকছড়িতে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:২০



ইউএনও-এএসপির সঙ্গে ওসির 'দ্বন্দ্ব', তোলপাড় চলছে মানিকছড়িতে

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি থানার ওসি মাইন উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে চিঠি দিয়েছেন মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আহসান উদ্দিন মুরাদ ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি-সার্কেল) মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেছেন, ইউএনও মুরাদ উল্টো পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। আর এএসপি তৌফিকুলের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। এ পরিস্থিতিতে ওসির সঙ্গে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে তোলপাড় চলছে উপজেলা প্রশাসনে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের বরাবরে গত ১০ জানুয়ারি করা অভিযোগে এএসপি মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ৯ জানুয়ারি মানিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরের দিন ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই সুযোগে ওসি মাইন উদ্দিন তাঁর (এএসপি) বডিগার্ড আবু জাফরের কাছ থেকে অস্ত্র, গুলি ও ওয়্যারলেসটি কেড়ে নিয়ে জেলা পুলিশে পাঠিয়ে দেন।

ইউএনও মো. আহসান উদ্দিন মুরাদ গত ১৯ ডিসেম্বর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ইউএনও তাতে অভিযোগ করেন, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওসি মাইন উদ্দিন একদল সাদা পোশাকধারী লোক নিয়ে তাঁর অফিসে এসে মানিকছড়ির নয়াবাজারের রেস্ট হাউসের চাবি দাবি করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চাবি দেওয়া যাবে না মর্মে ওসিকে ফিরিয়ে দিতে চাইলে ওসি সে সময় অসদাচরণ করেন। ফেরার সময় ইউএনওকে 'দেখে নিব' বলে হুমকি প্রদর্শন করেন। ইউএনওর করা এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। আগামী ৩১ জানুয়ারি মানিকছড়িতে গিয়ে এই কমিটি সরেজমিন তদন্ত করবে।

মানিকছড়ি থানার ওসি মাইন উদ্দিন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ইউএনও এবং এএসপির করা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন। ইউএনও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি। তাঁর সঙ্গে অসদাচরণের প্রশ্নই ওঠে না। মূলত নয়াবাজারে রেস্ট হাউসের চাবি আনতে গেলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন এবং অফিস থেকে পুলিশ সদস্যদের বের হয়ে যেতে বলেছিলেন। ওসি বলেন, 'এএসপি স্যার হঠাত্ অসুস্থ হলে ৯ জানুয়ারি রাতে আমিই হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু ১১ জানুয়ারি সবার অজান্তেই তিনি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। নিজের সরকারি গাড়ি, একটি প্রাইভেট কার তিনি ভাঙচুর করেন। মানুষের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলে আমি স্যারের ওয়ারলেস, বডিগার্ডের অস্ত্র, গুলি উদ্ধার করে জেলা পুলিশে পাঠিয়ে দিই। এখানে অন্যসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'



মন্তব্য