kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা প্রদান

চট্টগ্রামে ইউএনও ওসিসহ চারজনকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:৪৮



চট্টগ্রামে ইউএনও ওসিসহ চারজনকে হাইকোর্টে তলব

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা এক আসামিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ জানুয়ারি তাঁদের হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্ট যাঁদের তলব করেছেন, তাঁরা হলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকারী লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম, ওই থানার ওসি মো. শাহজাহান এবং এসআই হেলাল খান ও ওয়াসিম মিয়া।

বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা চ্যালেঞ্জ করে লোহাগাড়ার আধুনগর সর্দানীপাড়ার বাসিন্দা কারাবন্দি বেলাল উদ্দিনের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত গত বছরের ১৪ অক্টোবর বেলাল উদ্দিনকে দুই পুরিয়া গাঁজাসহ হাতেনাতে ধরার অভিযোগে আট মাসের কারাদণ্ড দেন। এ সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন বেলাল উদ্দিন। রিট আবেদনে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

আদালত-সংশ্লিষ্ট চারজনকে তলবের পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে বেলাল উদ্দিনকে দেওয়া সাজা কেন বাতিল করা হবে না, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং আবেদনকারীকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসিসহ পাঁচজনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, অন্য একটি ফৌজদারি মামলায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে বেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৪ অক্টোবর তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে দেখানো হয়, ১৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বেলালকে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে দুই পুরিয়া গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রপ্তোর করা হয়। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দ তালিকায় ঘটনার তারিখ বলা হয়েছে ১৩ অক্টোবর রাত ৯টা ৫ মিনিট। এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায়ই বেলালকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যা সংবিধান ও আইন পরিপন্থী।


মন্তব্য