kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

কক্সবাজার রেললাইনের কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে

২১০ একর জমির দলিল হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:২০



কক্সবাজার রেললাইনের কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে

অবশেষে দীর্ঘ সাত বছরের প্রতীক্ষার শেষ হতে চলেছে। দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার থেকে রামু-ঘুনধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে। গতকাল সোমবার রেললাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের সদর উপজেলার জমির দখল হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের রেলপথের এই মেগাপ্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন।

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন কৃষি অফিসের নারিকেলবাগান ঘেঁষে প্রস্তাবিত ঝিলংজা রেলস্টেশন ভিত্তিপ্রস্তর চত্বরে রেললাইনের জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়। প্রকল্পের কক্সবাজার সদর উপজেলার ছয়টি মেৌজার ২১০.৪২৬০ একর জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। সদর উপজেলায় জমির অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ খাতে সরকারের মোট বরাদ্দ ৮৮৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ টাকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, 'কক্সবাজারবাসীর স্বপ্ন ছিল রেললাইন। যাতে করে রেলপথে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সাগরসৈকতের সৌন্দর্য দেখতে আসতে পারে। সরকার কক্সবাজারের জন্য বড় বড় প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাত দিয়েছে। অচিরেই কক্সবাজার হবে বাংলাদেশের জন্য শ্রেষ্ঠ জায়গা।'

তিনি বলেন, 'ক্ষতিপূরণের প্রতিটি চেক ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্ষতিপূরণের টাকার ব্যাপারে কেউ তৃতীয় পক্ষের কাছে আর্থিক লেনদেন করবেন না। দালালের কাছে যাবেন না। নিয়ম মেনে আবেদন করলে প্রকৃত মালিকরা অবশ্যই ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন।'

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক মুফিজুর রহমান বলেন, 'রেলওয়ে প্রকল্প কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প। অধিগ্রহণের জমি পাওয়ায় আজ থেকে রেললাইন বাস্তবায়নের চাকা ঘুরল। প্রস্তাবিত ঝিলংজা রেলস্টেশন হবে এশিয়ার মধ্যে সর্ববৃহৎ।'

কক্সবাজারের ঐতিহ্যের প্রতীক ঝিনুকের আদলে গড়া নান্দনিক সৌন্দর্যের সাততলা ভবনটির আয়তন হবে ৫০ হাজার বর্গফুট।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজি আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসাইন ২১০.৪২৬০ একর অধিগ্রহণকৃত ভূমির দলিল রেলওয়ের উপপ্রকল্প কর্মকর্তা আবুল কালামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক লালন দত্তের হাতে অধিগ্রহণের জমির ক্ষতিপূরণের ২৫ লাখ ৫০০ টাকার ও উক্যথিন মংসাবিনের ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকার পৃথক চেক আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। উল্লেখ্য, কক্সবাজার সদর, রামু ও চকরিয়ার ৩৩টি মেৌজা থেকে রেললাইনের জন্য এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।



মন্তব্য