kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

মহেশখালী নৌপথে স্পিডবোটডুবি

কক্সবাজারে বাস-অটো সংঘর্ষে নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:১৪



কক্সবাজারে বাস-অটো সংঘর্ষে নিহত ৩

কক্সবাজার সৈকতের মেরিন ড্রাইভ সড়কে পর্যটকবাহী একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সামনাসামনি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো চারজন। গতকাল সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রামুর খুনিয়াপালং প্যাঁচারদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহত সবাই অটোরিকশার যাত্রী।

এদিকে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে একটি খননযন্ত্রের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পর্যটকবাহী একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। এতে দুই নারীসহ তিন ভারতীয় পর্যটক ও বোটের চালক নিখোঁজ হন। পরে ভারতীয় পর্যটকদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা : নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন হলেন টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে অটোরিকশাচালক নুরুল আবছার (২৬) ও যাত্রী ছৈয়দুল ইসলাম (৫৫)। অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

তিনজনের মধ্যে চালকসহ দুজন দুর্ঘটনাস্থলে এবং আরেকজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশাটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল হালিম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, পর্যটকবোঝাই ইনানী অভিমুখী বাসটি প্যাঁচারদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছলে কক্সবাজারমুখী অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও ওয়াহিদ রুবেল বলেন, সরু ও অপরিচিত রাস্তা হলেও বেপরোয়া গতিতে চলছিল পর্যটকবাহী বাসটি। আর অটোরিকশায় পাঁচজনের স্থলে যাত্রী নেওয়া হয়েছে ছয়জন। ফলে স্কুলের সামনের সেতুটি পার হতে গিয়ে বাস ও অটোরিকশাটি দুর্ঘটনায় পড়ে।
 
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজুল হক টুটুল বলেন, মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্পিডবোটডুবি : গতকাল দুপুর ১টার দিকে বাঁকখালী নদীর মোহনায় খননযন্ত্রের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় পর্যটকবাহী স্পিডবোট। নিখোঁজ যাত্রীদের যৌথভাবে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা।

উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ভারতের কলকাতার বাসিন্দা মঞ্জুলাল ঘোষ (৫৮) ও বিধিকা মণ্ডল (৪০)। অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। অসুস্থ অবস্থায় তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কালাম জানান, পর্যটকবাহী স্পিডবোটটি কক্সবাজার থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে বাঁকখালী মোহনায় এসে সাগর থেকে বালু উত্তোলনরত একটি খননযন্ত্রের সঙ্গে বোটটির ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। পর্যটকরা নদীতে পড়ে যান। অন্য বোটের লোকজন তাঁদের তাত্ক্ষণিক উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে দুই নারীসহ অন্য তিন পর্যটক ও স্পিডবোটটির চালক আনিছ নিখোঁজ হন। পরে  উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা নিখোঁজ তিন ভারতীয় পর্যটককে উদ্ধার করেন। চালকের অদক্ষতার কারণে বোটটি খননযন্ত্রের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

দুর্ঘটনার শিকার ওই বোটের যাত্রী সমিত ঘোষ জানান, তাঁরা কলকাতা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১০ জন সকালে স্পিডবোটে করে আদিনাথ দর্শনে যান। সেখানে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁদের বহনকারী স্পিডবোটটি।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সাফায়েত হোসেন সাগর বলেন, চালক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মনে হয়, সাঁতার জানা থাকায় তিনি সাঁতরে তীরে উঠে চলে গেছেন।

মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. আবুল কালাম বলেন, কী কারণে স্পিডবোটটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।



মন্তব্য