kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

ফটিকছড়ির যুবলীগ নেতা এনাম হত্যা মামলা

বুকের ওপর চেপে বসেছিল নওশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:১৮



বুকের ওপর চেপে বসেছিল নওশাদ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এনাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরেক আসামি নওশাদ আলীকে গ্রপ্তোর করেছে পুলিশ বু্যরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল রবিবার নগরীর আতুরার ডিপো এলাকা থেকে তাকে গ্রপ্তোর করা হয়। নওশাদ উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়নের নজিবুর রহমানের ছেলে।

পিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখে নওশাদ ওই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নওশাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক জানান, রবিবার গ্রপ্তোরের পর নওশাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ ফেলার জন্য ব্যবহূত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।

আবু জাফর মো. ওমর ফারুক আরো জানান, গত বছরের ৭ মে বিকেলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগ নেতা এনামকে। দুই দিন পর ৯ মে সন্ধ্যায় জাফতনগর ইউনিয়নের নিশ্চিতপুর এলাকার একটি সেতুর নিচ থেকে এনামের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এনামের মা হালিমা খাতুন বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ও জেলার গোয়েন্দা পুলিশ দুই মাস তদনে্তর পরও হত্যাকাণ্ডের ক্লু বের করতে পারেনি। পরে মামলাটি তদনে্তর দায়িত্ব পায় পিবিআই।

গ্রেপ্তারকৃত নওশাদ পিবিআইকে জানায়, গত ইউপি নির্বাচনে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন এনাম। এ কারণে প্রতিপক্ষের সুজনের পরিকল্পনায় এনামকে হত্যা করা হয়।

সেদিনের বর্ণনা দিয়ে নওশাদ জানায়, গত ৭ মে বিকেলে সুজন তাকে ফোন করে বাসায় যেতে বলেন। সঙ্গে অটোরিকশাচালক বেলালকেও নিতে বলা হয়। পরে সুজনের বাসায় যায় নওশাদ। সেখানে গিয়ে এরশাদ ও ফারুককে দেখতে পায় সে। এরপর সুজন ফোন করে এনামকে তাঁর বাসায় ডাকেন। কিছুক্ষণ পর এলে এনামকে সুজনের দোতলা বাড়ির একটি কক্ষে বসতে বলা হয়। সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে সুজন তাঁকে ধরে ফেলে। এরপর বেলাল, এরশাদ, ফারুক ও নওশাদ মিলে এনামের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। ফারুক রশি দিয়ে এনামের হাত-পা বেঁধে ফেলে। বেলাল ও নওশাদ গলা টিপে ধরলে এনাম ধস্তাধসি্ত করেন। তখন এনামের বুকে চেপে বসে নওশাদ। এ সময় সুজন পা দিয়ে গলা চেপে ধরলে এনাম আর নড়াচড়া করতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই এনামের মৃত্যু হয়।

নওশাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মো. ওমর ফারুক আরো বলেন, এনামের মৃত্যুর পর সুজন গিয়ে পাশের তৌকিরহাট বাজার থেকে একটি চটের বস্তা কিনে আনেন। ওই বস্তায় এনামের মরদেহ ভরেন সুজন ও ফারুক। পরে মধ্যরাতে অটোরিকশায় তুলে মরদেহ নিয়ে নিশ্চিতপুর এলাকার ব্রিজের নিচে ফেলা হয়।



মন্তব্য