kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

ধরা পড়া জঙ্গিদের ম্যাপে ‘হিজরত’, নাশকতার ছক!

চট্টগ্রামে আরো ৩ জঙ্গিকে খোঁজা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৪:৪১



ধরা পড়া জঙ্গিদের ম্যাপে ‘হিজরত’, নাশকতার ছক!

চট্টগ্রামের সদরঘাট থানা এলাকার জঙ্গি আস্তানায় দুই জঙ্গি আশফাকুর রহমান ও রকিবুল হাসানের সঙ্গে মেজবাহ ও মনছুর ওরফে জীবন নামের আরো দুই জঙ্গি ছিল। পুলিশ তাদের ধরতে পারেনি। আবার চারজনেরই নেতার নাম ‘ডন’। এই ডনের অবস্থান সম্পর্কে ধরা পড়া দুই জঙ্গি তথ্য দিতে পারছে না বা দিচ্ছে না। পালিয়ে যাওয়া দুজনের সঙ্গে এই ‘ডন’কেও খুঁজছে চট্টগ্রামের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

এদিকে ধরা পড়া দুজনের মোবাইল ফোনেই যোগাযোগের একটি বিশেষ অ্যাপস পাওয়া গেছে। দুজনের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে এই অ্যাপসের মাধ্যমে কথোপকথনের বেশ কিছু অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশটও নেওয়া হয়েছে। চ্যাটিংয়ের এক জায়গায় ‘হিজরত’ কথাটি আছে। সাধারণত জঙ্গিরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতকে হিজরত বুঝিয়ে থাকে। জঙ্গিরা নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে যাতায়াত বুঝিয়েছে—এমনটাই ভাবছে পুলিশ।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তারাঞ্চল ও কুমিল্লা থেকে ‘হিজরত’ করে চট্টগ্রামে চার জঙ্গি এসেছে সদরঘাট থানা উড়িয়ে দেওয়ার জন্য। সদরঘাট থানার অবস্থান চিহ্নিত করা আছে—জঙ্গিদের হাতে আঁকা এমন ম্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে। ম্যাপে টার্গেটকৃত স্থানকে লাল কালিতে চিহ্নিত করা ছিল।

কর্মকর্তারা বলছেন, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশেষ ধরনের অ্যাপসের সংখ্যাও বাড়ছে। সব অ্যাপসে সব সময় নজরদারি করা সম্ভব হয় না। এ কারণে জঙ্গিরা নিত্যনতুন অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছে তারা। 

সোমবার মধ্যরাতে সদরঘাট থানা এলাকা থেকে ১০টি গ্রেনেডসহ দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার জঙ্গিদের চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও নগর গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) এ এ এম হুমায়ুন কবির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আফতাব হোসেন বলেন, জঙ্গিদের কাছে তাদের গুরু বা তাদের ওপরের স্তরের নেতা ডনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তারা দাবি করেছে, ডনের সঙ্গে তাদের কখনোই দেখা হয়নি। তবে অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ হতো।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের অন্য একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা আশফাককে একাধিক প্রশ্ন করেছিলেন। জবাবে আশফাকুর রহমান জানিয়েছে, ‘আমি (আশফাকুর) একবার ডনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি (ডন) ভারতে অবস্থান করছেন বলে ইঙ্গিত করেছিলেন। অবশ্য আশফাকুরের এমন তথ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পুরোপুরি বিশ্বাস করছেন না।



মন্তব্য