kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টলা বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৪:২৮



মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টলা বন্ধু

ফাইল ছবি

‘মহিউদ্দিন ভাই ও চট্টগ্রাম অবিচ্ছেদ্য ইতিহাস। চট্টল বীর মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টলা বন্ধু, চট্টগ্রামের বন্ধু।’ এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণে এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) এই সভার আয়োজন করে। 

সভায় তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের কণ্ঠস্বর ছিলেন মহিউদ্দিন। উন্নয়নের কাণ্ডারী ছিলেন তিনি। লালদীঘি মাঠে তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি, অশ্রু বিসর্জন তাই প্রমাণ করে। তিনি যেভাবে মানুষকে ভালোবেসেছেন মানুষও তাঁর জানাজায় উপস্থিত থেকে তা জানান দিয়েছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবন নির্মাণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। বিএনপি সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের মেয়র হয়ে তিনি এ কাজটি করেছিলেন। এ প্রেস ক্লাব হতো না, যদি তিনি সহযোগিতা না করতেন।’

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি যেমন দেশের তীর্থ কেন্দ্র, তেমনি চশমা হিল ছিল চট্টগ্রামের মানুষের আস্থার ঠিকানা। চশমা হিল ছিল চট্টগ্রামবাসীর লঙ্গরখানা। 

মহিউদ্দিনকে সাহসী ও উদ্যোগী মেয়র আখ্যা দিয়ে ইকবাল সোবহান বলেন, বেতন-ভাতা দিতে না পারা একটি করপোরেশনকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু নগরবাসীর ওপর ট্যাক্স বাড়াননি। নির্বাচনে তাঁর বিজয় নিশ্চিত করতে কারচুপির নীলনকশা ঠেকাতে লাখো মানুষ রাত জেগে পাহারা দিয়েছিল। অনেকেই মেয়র হবেন, কিন্তু মেয়র হানিফ ও মেয়র মহিউদ্দিন হতে পারবেন না।

পুরো চট্টগ্রাম মহিউদ্দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছে জানিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিনের চশমা হিলে বহুবার গিয়েছেন। মৃত্যুর পর সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন মহিউদ্দিন ভাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাঁর স্মৃতিকে জাগরূক রাখতে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন।

সভায় ‘সাংবাদিক-বান্ধব’ মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক।

বিএফইউজের সহসভাপতি শহীদ উল আলমের সভাপতিত্বে সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হক চৌধুরী নওফেল। সিইউজে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী প্রমুখ। পুলক সরকারের পরিবারকে সিইউজের সহায়তা প্রদান

সিইউজের সদ্য প্রয়াত সদস্য পুলক সরকারের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছে সিইউজে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্মরণসভায় এ সহায়তা দেওয়া হয়। 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে পুলক সরকারের স্ত্রী ও কন্যার হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরী জানান, পুলক সরকারের একমাত্র সন্তান পারমিতা সরকারের লেখাপড়ার দায়িত্ব দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক নিয়েছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্মরণসভায় আগত অতিথিরা।


মন্তব্য