kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সোনা পাচার মামলায় আনসার সদস্য কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৩:২৩



চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সোনা পাচার মামলায় আনসার সদস্য কারাগারে

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সোনা পাচারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আনসার বাহিনীর সদস্য মো. ইলিয়াছ গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহেনুরের আদালতে জামিন আবেদন শুনানির সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে লাগেজে করে সোনা পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছিল। ওই সময় বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ছিলেন আসামি মো. ইলিয়াছ। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার আসামি আনসার সদস্য মো. ইলিয়াছকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাবলু।

তিনি বলেন, বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মো. ইলিয়াছ। এই সময় আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলে সেটির শুনানি হয়। শুনানির সময় দুদকের পক্ষে আমি জামিনের বিরোধিতা করি। পরে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা যাত্রী আলাউদ্দিনের ব্যাগ তল্লাশি করে ২৫টি সোনার ব্যাগ জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ব্যাগটির বহনকারী আলাউদ্দিনকে নিরাপদে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বিমানবন্দরের তত্কালীন ব্যবস্থাপকের পিএ মোমেন মকসুদের বিরুদ্ধে।

সোনার বার জব্দের ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে দুদকের তদন্তে বেরিয়ে আসে সোনা পাচারের সঙ্গে বিমানবন্দরের দায়িত্বরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত। এরপর ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় আরেকটি মামলা করেন। এই মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক এইচ এম আক্তারুজ্জামান আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই অভিযোগপত্রের সাত নম্বর আসামি আনসার সদস্য মো. ইলিয়াছ। 

অন্য আসামিরা হলেন কাস্টমসের এআরও আনিসুর রহমান, সিভিল এভিয়েশনের কর্মচারী মোমেন মকসুদ, আনসারের এপিসি ইলিয়াস, আনসার সদস্য মাহফুজ ও শাহিন, বিমানের ট্রাফিক বিভাগের কর্মী  নুরুদ্দীন এবং লাগেজের মালিক আলাউদ্দিন।


মন্তব্য