kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

পৌষেও হচ্ছে বৃষ্টি, হতে পারে আজও

দুর্ভোগে রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:০২



পৌষেও হচ্ছে বৃষ্টি, হতে পারে আজও

পৌষের শীতেও গতকাল সোমবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হলো। আর আজ মঙ্গলবার হতে পারে অন্যান্য অঞ্চলেও।

আবহাওয়া অফিস বলছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং সিলেট, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় আজ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারে গত রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি গতকাল এসে মাঝারি বৃষ্টিতে পরিণত হয়। এতে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে চলাচলের রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে গেছে। শীতের মধ্যে আবার এই বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোহিঙ্গারা; সবচেয়ে বেশি কাবু হয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

উখিয়ার থাইংখালী তাজনিমারখোলা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ নবী (৪৫) জানান, মাত্র কয়েক দিন আগে মিয়ানমারের সিকদারপাড়া গ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন তিনি। ছেলেমেয়ে নিয়ে ৯ জনের পরিবার তাঁর। এখানে এসে নিবন্ধন কার্ডও নিয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী হিসেবে চাল, ডাল ছাড়া আর কিছুই পাননি। রান্না করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ছেলেমেয়েদের খাবার দিতে পারছেন না। তার ওপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে কোথাও যেতেও পারছিল না।

আফলাতুন (৫৫) নামের এক বৃদ্ধা জানান, তাঁর ঘরে কেউ না থাকায় বাধ্য হয়ে দোকানে যেতে হয়েছে খাবার কিনতে। রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় আরেকজন তাঁকে দোকানে এগিয়ে দিয়ে আসে।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের শেড মাঝি লালু জানান, গতকাল তাঁর এলাকার শিবির থেকে বাইরে তেমন কোনো রোহিঙ্গার দেখা পাওয়া যায়নি। কেননা এখানে একটুখানি বৃষ্টি হলে হাঁটু পরিমাণ কাদায় পরিণত হয়।

উখিয়ার তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা শিবিরের শেড মাঝি ইসমাঈল বলেন, তাঁরা সরকারি-বেসরকারি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কোনোভাবে দিন যাপন করছেন। তবে চলাচলের রাস্তাগুলো ইট বিছানো হলে রোহিঙ্গা শিবিরের এমন দশা হতো না।

কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের শেড মাঝি আবদুল হামিদ জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ পরিবারের লোকজন শীতের কাপড় পেলেও নতুন আসা রোহিঙ্গারা এখনো পায়নি। এ কারণে এই রোহিঙ্গারাই বৃষ্টিতে আরো শীতের কবলে পড়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান জানান, বৃষ্টি হলে শিবিরের রাস্তাঘাটের অবস্থা সত্যিই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য এনজিওর মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরের রাস্তাঘাটের আরো একটু উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে।



মন্তব্য