kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সরেজমিনে সীতাকুণ্ড হাসপাতাল

অনেক ‘নেই’ নিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)    

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৪:৪৭



অনেক ‘নেই’ নিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা

এক্স-রে মেশিন আছে, কিন্তু টেকনিশিয়ান নেই। তাই এটি কাজে লাগে না। সার্জারি কনসালট্যান্ট আছেন; কিন্তু ডায়াথার্মি মেশিন নেই। ফলে কোনো জরুরি অস্ত্রোপচার করা যায় না! জেনারেটর আছে, তেল বরাদ্দ নেই। তাই এটি অচল পড়ে আছে। পদ আছে, কিন্তু চারজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। এতে অনেক জরুরি সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। আবার পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে তো দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন বন্ধ।

এভাবে ‘নেই আর নেই’ নিয়ে কোনো রকমে চলছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ৫০ শয্যার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। মূলত দুটি কারণে এ হাসপাতালে রোগীদের ভিড় লেগেই থাকে। প্রথমত, এর অবস্থান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। দ্বিতীয়ত, এলাকাটি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার।

হাসপাতালের রোগী ও চিকিত্সকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নানা সমস্যার কথা। ডায়রিয়ার চিকিত্সা নিতে আসা মুরাদপুরের ফজলুল রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘দু-একটি বাদে সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। এখানে শুধু প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয়। ওষুধ দেওয়া হয় না বললেই চলে।

পৌর সদরের নিজতালুক এলাকার বাসিন্দা মো. আলী আজগর বলেন, ‘এখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয় মাত্র।’ ওই হাসপাতালে একাধিকবার সেবা নিতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা, বিষপান, পুড়ে যাওয়া, কেটে যাওয়া, বিষাক্ত প্রাণীর কামড়সহ বেশির ভাগ রোগীর জরুরি চিকিত্সাসেবা এখানে নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হলে চিকিত্সকরা বিভিন্ন ল্যাব দেখিয়ে দেন। হাসপাতালের ল্যাবে টেকনিশিয়ানও নেই।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার জন্য আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে চারজন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সবার নিয়োগ হয়েছে ঠিকাদারের মাধ্যমে। ঠিকাদার সরকারের বরাদ্দকৃত ১৫ হাজার টাকার পরিবর্তে তাদের মাসে বেতন দেন চার হাজার টাকা করে। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে সেই চার হাজার টাকাও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পতুল রানী দে, ফিরোজা বেগম ও অমৃত লাল। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল করিম রাশেদ বলেন, আসলে অনেক সমস্যার মধ্যেই আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখানে ৩১টি পদ থাকলেও চিকিত্সক আছেন ২৪ জন। এর মধ্যে ডেপুটেশনে আছেন চারজন। এক্স-রে মেশিন আছে। কিন্তু টেকনিশিয়ান না থাকায় সেটি পড়ে আছে। সার্জারির জন্য কনসালট্যান্ট আছেন, কিন্তু ডায়াথার্মি মেশিন না থাকায় তিনি অস্ত্রোপচার করতে পারছেন না।

ওষুধ সরবরাহের ব্যাপারে ডা. নুরুল করিম রাশেদ বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিত্সা নিতে আসে। বেডেও রোগী ভর্তি থাকে। তাই সবাইকে সব ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে অনেক ওষুধই দেওয়া হয়। আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতনের বিষয়ে ঠিকাদারই ভালো বলতে পারবে।

এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, সব হাসপাতালের একই অবস্থা। পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারের মাধ্যমে। ঠিকাদারদের ভাষ্য, মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ না পাওয়ায় বেতন দিতে অসুবিধা হচ্ছে।


মন্তব্য