kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

ফিরে দেখা ২০১৭ : মিরসরাই

জঙ্গি আস্তানায় ছড়িয়েছিল আতঙ্ক, পর্যটনে সুখবর

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)   

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৪:৪২



জঙ্গি আস্তানায় ছড়িয়েছিল আতঙ্ক, পর্যটনে সুখবর

পৃথিবী প্রবেশ করছে আরো একটি নতুন বছরে। পেছনের ভালো কিছুকে আগলে ধরে ও মন্দ সব খবর পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে শুরু হবে মানুষের পথচলা। বিশ্ববাসীর মতো করে চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলের মানুষও খারাপ একটি খবর ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যাশায় শুরু করবে নতুন দিন নতুন বছর।

যে খবর ব্যথিত করেছিল : দিনটি ছিল ২০১৭ সালের ৮ মার্চ। সেদিন রাত পৌনে ১২টা নাগাদ মিরসরাই পৌর সদরের রিদোয়ান মঞ্জিলে একটি জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পেয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে তল্লাশি চালানোর সময় গ্রেপ্তার হয় জঙ্গি মাহমুদুল হাসান ও জসীম উদ্দিন। তাদের সঙ্গে নিয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ পুলিশের একাধিক বিশেষ দল অভিযান চালায় মিরসরাই পৌর সদরের পূর্ব গোভানীয়া গ্রামের ওই রিদোয়ান মঞ্জিলে। বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালালে সন্ধান মেলে ভয়ংকর একটি জঙ্গি আস্তানার।

এ সময় ওই ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষে পাওয়া গিয়েছিল ছোট-বড় মিলে ২৯টি শক্তিশালী গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম। ঘটনার পরদিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বোমা বিস্ফোরক ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দকৃত গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করে।

এ ঘটনায় পুরো জনপদের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ভয়ংকর আতঙ্ক। শেষ পর্যন্ত কুমিল্লায় আটক জঙ্গি ও মিরসরাইয়ের খোঁজ পাওয়া আস্তানার সূত্র ধরে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালায় জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

একই বছর ১৬ মার্চ পার্শ্ববর্তী উপজেলা সীতাকুণ্ডের ছায়ানীড় ও সাধন কুঠির নামের দুটি বাড়িতে খোঁজ মেলে জঙ্গি আস্তানার। সেখানে টানা ২০ ঘণ্টা চলে ‘অ্যাসল্ট ১৬’ নামের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। যে অভিযানে অংশ নিয়েছিল জেলা পুলিশ, র্যাব ও চৌকস সোয়াত সদস্যরা। ওই অভিযানে ঘটনার দিন বিকেল ৪টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত জিম্মি হয়ে পড়েছিল ছায়ানীড়ে বসবাসকারী সাধারণ বাসিন্দারা। পরে অক্ষত অবস্থায় ওই সব জিম্মি মানুষজনকে নিরাপদে বের করে আনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় সম্পূর্ণ অভিযান শেষ হয়েছিল ঘটনার চতুর্থ দিন শেষে।

এসব খবর কালের কণ্ঠসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হওয়ার পর মিরসরাই-সীতাকুণ্ডসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নেমে আসে। হতভম্ব হয়ে পড়েছিল মানুষ। 

যে খবর জাগিয়েছে সম্ভাবনা : প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পরও দীর্ঘকাল মুখ থুবড়ে পড়েছিল মিরসরাইয়ের পর্যটন খাত। রাষ্ট্র ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে বারবার। শুধু উন্নয়ন ঘটেনি এখানকার পর্যটনশিল্পের। অযত্ন অবহেলা আর উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়ে মুহুরী প্রকল্প, খৈয়াছড়া ঝরনা ও দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম লেক ‘মহামায়া’ দিন দিন পর্যটনশূন্য হয়ে পড়ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যেও বিরাজ করছিল রাজ্যের হতাশা। অবশেষে বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কারণে মানুষের হতাশা কিছুটা লাঘব হয়েছে।

দিনটি ছিল ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ। সরকারের শীর্ষস্থানীয় তিন মন্ত্রী আসেন মিরসরাইয়ের পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো ঘুরে দেখতে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মহামায়া, খৈয়াছড়া ঝরনাসহ বিভিন্ন পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। সেদিন বন ও পরিবেশমন্ত্রী মিরসরাইয়ে পরিকল্পিত ইকোট্যুরিজম প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেন। এরপর চলতি বছর মে মাসে সরকারের বন বিভাগ মিরসরাইয়ের মহামায়া ও খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় পরিকল্পিত পর্যটন জোন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহামায়ায় ঝুলন্ত সেতু, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, পিকনিক স্পট, পাহাড়ি সড়কসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারে নেওয়া হয়েছে ২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রকল্প। আর খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার ও পর্যটক টানতে ২৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। 


মন্তব্য