kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

রামুতে বিকেএসপি’র কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:৩৩



রামুতে বিকেএসপি’র কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কৃষকরা

ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের রামুতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) আঞ্চলিক কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ আজ শুক্রবার বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানের সাইনবোর্ডও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। বিকেএসপি’র আঞ্চলিক কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির পাকা ধান নষ্ট করে মাটি ভরাটের কারনে কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন। 

তদুপরি অধিগ্রহণ করা জমির সর্বশেষ ক্ষতিপূণ মূল্য তিনগুণ করা হলেও বিকেএসপি’র এই জমির জন্য প্রদান করা হচ্ছে দেড়গুণ ক্ষতিপূরণ। এসব কারনে আজ শুক্রবার শতশত কৃষক ও অধিগ্রহণ করা জমির মালিকগন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নোনাছড়ি মৌজায় বিকেএসপি’র আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২৮.৬৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণ করা জমিতে কাজ শুরু না হওয়ায় এবং জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করায় এলাকাবাসী জমিতে ধান চাষ করেন। বর্তমানে এ জমিতে পাকা ধান রয়েছে। আগামী ক’দিন পরেই ক্ষেতের ধান কাটা হবে।

এলাকাবাসীর দাবি রাতের আঁধারে কৃষকদের পাকা ধানের বিকেএসপি’র ঠিকাদার মাটি ফেলে ভিত্তি ফলক ও সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এতে কৃষকদের বিপুল পরিমান পাকা ধান মাটিতে চাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিকেএসপি নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহনের টাকাও জমির মালিকদের এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এসব কারনে ক্ষুব্দ জনতা ও জমির মালিকরা আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বিকেএসপি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানে দেয়া সাইনবোর্ড ও নামফলক ভেঙ্গে দেয়। 

ক্ষুব্দ জমির মালিকরা জানান, জমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করে তাদের জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো ও মাটি ভরাট করা হচ্ছে। যা জমির মালিকদের প্রতি চরম অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক। 

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। পাকা ধানের উপর মাটি ফেলা অমানবিক। বিষয়টি তদন্ত করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে জমি অধিগ্রহনের টাকা পরিশোধ না করে তাদের জমিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো ও মাটি ভরাট করার প্রতিবাদে জমির মালিকরা আগামী রবিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান জানিয়েছেন- জমির অধিগ্রহণের দেড়গুণ হিসাবে প্রায় আশিভাগ ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। জমির মালিকদের তিনগুণ ক্ষতিপূরণের দাবির একটি দরখাস্ত বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো তা অনুমোদন হয়ে না আসায় তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা এ মুহুর্তে সম্ভব নয়।

 


মন্তব্য