kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

পার্বত্য মেলা

পাহাড় ও সমতলের সেতুবন্ধ

শরীফুল আলম সুমন   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৭



পাহাড় ও সমতলের সেতুবন্ধ

ব্যাম্বু চিকেন, মাছ হেবাং, বিনি হোসা, সান্নে পিদে, কলা পিদে, চুমু মাছসহ নানা ব্যতিক্রমী খাবার রয়েছে পার্বত্য এলাকায়। যারা নিয়মিত পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণ করে তাদের পক্ষেও এত বৈচিত্র্যময় খাবার একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়।

কারণ কোনো খাবার রাঙামাটিতে গেলে পাওয়া যায়, আবার কোনোটি হয়তো পাওয়া যায় বান্দরবান অথবা খাগড়াছড়িতে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হওয়া 'পার্বত্য মেলা-২০১৭'তে পাহাড়ের বিচিত্র ও নানা স্বাদের খাবার পাওয়া যাচ্ছে একসঙ্গে।

পার্বত্য এলাকার যেসব মানুষ রাজধানী ও এর আশপাশে বসবাস করে তাদের অনেকেই এসেছিল মেলায়। আর উৎসাহ নিয়ে যোগ দিয়েছে সমতলের মানুষও। বিকেল সাড়ে ৩টায় মেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। সমতল ও পাহাড়ের মানুষের এ যেন এক সেতুবন্ধ।

আগামী ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস-২০১৭ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছে এ মেলা। শিল্পকলা একাডেমিতে পার্বত্য মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
 
পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-সংস্কৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, খাবার-দাবার ইত্যাদির সঙ্গে সমতলের মানুষের পরিচয় করে দিতেই এ মেলার আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।

মেলায় ৯২টি স্টল রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আর মেলা শেষ হবে ১১ ডিসেম্বর। পাঁচ দিনের এ মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকছে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

মেলায় 'মনজুরনি' নামের খাবারের স্টলটি রাঙামাটির উদয় চাকমার। পাহাড়ি কলা, জাম্বুরা, পেঁপে, বিন্নি চাল আর বিভিন্ন প্রকার মাছ বাঁশের ভেতর ভরে 'চুমু মাছ' নামের এক ব্যতিক্রমী খাবার এনেছেন তিনি।

উদয় চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই মেলায় পণ্য বিক্রিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উত্পাদিত খাবারও সবার কাছে পরিচিত করতে চাই। '

ভিড় ছিল জুম্ম কিচেন নামের আরেকটি খাবারের স্টলে। ব্যাম্বু চিকেন, মাছ হেবাং, বিনি হোসা, সান্নে পিদে, কলা পিদেসহ বেশকিছু পিঠা ছিল এই স্টলে। স্টলটি এ্যাংকি চাকমার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলছিলেন, 'আমাদের নানা বৈচিত্র্যময় খাবার রয়েছে। আর জুম্ম কিচেন নামে এই খাবারগুলো আমরা রাজধানীতে হোম ডেলিভারি করে থাকি। আরো পরিচিতির জন্যই এই মেলায় এসেছি। '
কথা হয় উংখিং হ্যান্ডিক্র্যাফটের মালিক প্রবাল দেওয়ান ও চন্দ্রা দেওয়ানের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, এই নামেই রাঙামাটির রাজবাড়ীতে তাঁদের দোকান রয়েছে। তাঁরা নিজেদের তত্ত্বাবধানেই তাঁদের পণ্যগুলো উত্পাদন করে থাকেন। বর্তমানে যেহেতু শীত মৌসুম। নানা ধরনের চাদরের সমাহার রয়েছে তাঁরা স্টলে। ভালো বিক্রি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

এ ছাড়া পার্বত্য এলাকার সব ধরনের ফল-মসলাও হাজির হয়েছিল শিল্পকলা একাডেমিতে। বিভিন্ন স্টলে পাহাড়ি কলা, কমলা, জাম্বুরা, পেঁপে, আখ, আদা আর বিভিন্ন ধরনের সবজিও রয়েছে।

মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, 'আমি মনে করি বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগান। ফুলের বাগানে যেমন নানা রঙের ফুল ফুটে থাকে, তেমনি বাঙালি, পাহাড়িও একেকটা ফুল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের এই বাগানটা উপহার দিয়ে গেছেন। তাঁর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা, নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ নামের সেই বাগানকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত করেছেন। ' তিনি আরো বলেন, 'বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। বঙ্গবন্ধু আমাদের যেই ফুলের বাগান উপহার দিয়েছেন তঁাকে সমৃদ্ধ করতে হবে। '

মন্ত্রী ফিতা কেটে ও পায়রা উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সব কয়টি স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত মানুষের উন্নয়নে জাতিসংঘ ২০০২ সালে ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে মেলার পাশাপাশি ১১ ডিসেম্বর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে 'পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকি, জলবায়ু, ক্ষুধা, অভিবাসন' শীর্ষক দিনব্যাপী এক আলোচনাসভারও আয়োজন করা হয়েছে।


মন্তব্য