kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে হারুন খুনে গ্রেপ্তার নেই, আধিপত্যের লড়াইয়ের শিকার!

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০২:০৮



চট্টগ্রামে হারুন খুনে গ্রেপ্তার নেই, আধিপত্যের লড়াইয়ের শিকার!

আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের জের ধরে গত রবিবার সন্ধ্যায় যুবদল নেতা মোহাম্মদ হারুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মনে করছে পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মহানগরের সদরঘাট থানার মাদারবাড়ী, শুভপুর বাস টার্মিনাল, বরিশাল কলোনিসহ আশপাশে 'চাঁদাবাজির উর্বর' এলাকায় একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকারি দলের পরিচয়দানকারী কিছু ক্যাডার।

এ ক্ষেত্রে পথের কাঁটা সরিয়ে দিতেও তারা দ্বিধা করছে না।
নিহত হারুন মাদারবাড়ীর রাজনৈতিক প্রভাবশালী এক পরিবারের সন্তান। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে তিনি প্রতিপক্ষের কাছে বাধার দেয়াল হয়েছিলেন বলেই তাঁকে খুন করা হতে পারে বলে নগর পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেন। এরই মধ্যে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম ধরে এগোচ্ছে পুলিশ। তবে তদনে্তর স্বার্থে নামগুলো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

নগর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুভপুর বাস টার্মিনাল, বরিশাল কলোনি ও মাদারবাড়ীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ঘিরে কিছু সন্ত্রাসীর তত্পরতা আছে; তারা সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করে থাকে। পুলিশ সরাসরি কোনো ক্যাডারের নাম প্রকাশ করেনি। তবে সিআরবির জোড়া খুনের মামলার আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম লিমন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে মাদারবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারের চষ্টো চালাচ্ছেন। লিমন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ওই এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের চষ্টো চালাচ্ছেন-এমন তথ্য পুলিশের কাছে আছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার খুশিতে যে মিছিলের আয়োজন করা হয় সেখানে সিটি করপোরেশনের তিনজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সাইফুল ইসলাম লিমন ও তাঁর অনুসারীরা। ওই মিছিলে থাকা সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মাছ কাদের ও লিমনের উপস্থিতির কারণেই 'চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার' ঘিরেই হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে। পুলিশের এমন ধারণা আরো বদ্ধমূল হচ্ছে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন কয়েকটি নাম পাওয়ার পর।

পরিবহন খাত ও মাদক খাতে কী পরিমাণ চাঁদাবাজি হয়? এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, কেউ তো সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিচ্ছে না। তবে মাদক বাণিজ্যে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে যুবলীগের এক ক্যাডার। অন্যদিকে শুভপুর বাস টার্মিনালসহ পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির একক আধিপত্য বিস্তার করতেই লিমনসহ তাঁর অনুসারীরা সক্রিয় বলে জেনেছে পুলিশ।

চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়েই খুনোখুনি চলছে কি না জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হারুন খুনের ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তাই কী কারণে হারুনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেই বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। ' তিনি বলেন, 'চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে জানা যাচ্ছে। কিন্তু এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলার সময় আসেনি। '

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, বরিশাল কলোনির মাদকের আখড়া নিয়ন্ত্রণ করে যুবলীগের একজন ক্যাডার। কিন্তু ওই আখড়া থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে ওই যুবলীগ ক্যাডারের নাম না থাকায় তার নাম বলছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, নগর পুলিশের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত এই ক্যাডার রেলওয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়ার পর ঠিকাদার কিছুদিন কাজও বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই সীমানাপ্রাচীরের কয়েকটি স্থানে আনুমানিক এক বর্গফুট অংশ ভেঙে মাদক বিক্রি কেন্দ্র ('কাউন্টার') তৈরি করে মাদক পাচারকারীরা। এর নেপথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওই যুবলীগ ক্যাডারের ইন্ধনেই মাদক বিক্রির 'কাউন্টার' করা হয়।


মন্তব্য