kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

আ. লীগের আনন্দ মিছিল শেষে গুলি, যুবদল নেতা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৩:৪২



আ. লীগের আনন্দ মিছিল শেষে গুলি, যুবদল নেতা নিহত

চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানার মাদারবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাসীরা যুবদলের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে; যিনি পরিবহন ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৫টার দিকে মাদারবাড়ীর কদমতলী শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চাঁদা না দেওয়ায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
নিহত মো. হারুন (৩৬) সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বিএনপির প্রয়াত নেতা দস্তগীর চৌধুরীর বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর চৌধুরীর ছেলে। নগরের কদমতলীতে তাঁদের বাড়ি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের তিনজন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাছান মুরাদ বিপ্লব, মোগলটুলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এক সময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদের এবং সিআরবির জোড়া খুন মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম লিমন নেতৃত্ব দেয়। এই আনন্দ মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই একদল যুবক 'বিএনপি বিএনপি' চিত্কার দিয়ে দেৌড় শুরু করে এবং ব্রোকার্স মার্কেটের সামনে গিয়ে হারুনকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, গুলির শব্দ শুনে প্রথমে আশপাশের লোকজন আতঙ্কে দৌড় শুরু করে। পরে রক্তাক্ত হারুনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কতর্বযরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে হারুনের বাড়ি মাত্র ২০০ গজ দূরে। হারুনের বুক ও ঘাড়ে তিনটি গুলি লাগে বলে জানা গেছে।  

হারুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের মর্গে যান মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। তাঁদের মধ্যে ডা. শাহাদাত হোসেন নিহত হারুনকে সদরঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানিয়েছেন। আর আবুল হাশেম বক্কর এ ঘটনার নেপথ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চাঁদাবাজিকে দায়ী করে বলেছেন, চাঁদা না দিয়ে প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে হারুনকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত হারুনের চাচি ও বিএনপি নেত্রী ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর জানিয়েছেন, 'কয়েক মাস আগে হারুনের মা ও বড় ভাই মারা গেছেন। হারুন এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। '

সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পুলিশ কাজ করছে। এ ছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। '

নগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আনন্দ মিছিল শেষে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিছিলকারীদের কোনো সম্পর্ক আছে কি না সেই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। '
হারুন হত্যাকাণ্ডকে প্রাথমিকভাবে 'টার্গেট কিলিং' বলে মনে করা হচ্ছে জানিয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মিছিল শেষ হওয়ার পরই খুনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিলে বোঝা যায়, এটা টার্গেট কিলিং। শুধু একজনকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। অন্য কাউকে আঘাত করা হয়নি। ' তিনি বলেন, 'খুনের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, সেটা অবশ্যই তদন্তে বেরিয়ে আসবে। '


মন্তব্য