kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

দিয়াজ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

আমরণ অনশনে থাকা মা জাহেদা হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৪:১৩



আমরণ অনশনে থাকা মা জাহেদা হাসপাতালে

টানা অনশনে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর দিয়াজের মাকে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর হত্যাকারীদের গ্রপ্তোর ও বিচার দাবিতে আমরণ অনশনের পঞ্চম দিন গতকাল শুক্রবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন তাঁর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। তাঁকে সকাল ১১টার দিকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রাত সোয়া ৯টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুরুতর অসুস্থ জাহেদার জ্ঞান ফেরেনি বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তিনি ওই হাসপাতালের ৫০৭ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে গত সোমবার আমরণ অনশন শুরু করেন তাঁর মা। এর মধ্যে প্রথম দুই দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় এবং হাটহাজারী থানার সামনে অনশন করার পর গত বুধবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

জাহেদা আমিনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাসে জাহেদা আমিন তাঁর ছোট ভাই সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ বিন আমিনের বাসায় শয্যাশায়ী ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিত্সকদের তত্ত্বাবধানে থাকাকালে জাহেদাকে ওই দুই দিন চারটি স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তাঁকে খাওয়াতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার জাহেদার ছোট বোন ঢাকা থেকে আসেন। তিনিও খাওয়াতে পারেননি।

মাকে হাসপাতালে ভর্তি করার কথা জানিয়ে জাহেদার বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছোট খালা চষ্টো করেছিলেন মাকে কিছু খাওয়ানোর জন্য; কিন্তু পারেননি।

আজকে (গতকাল) সকালে অজ্ঞান হয়ে গেলে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে ভর্তি করি। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাইস টিউবের মাধ্যমে দুই ঘণ্টা পর পর খাওয়ানো হচ্ছে। জ্ঞান এখনো পুরোপুরি ফেরেনি। '

ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানিয়ে নিপা বলেন, 'দিয়াজের খুনিরা ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। গত বুধবার হাটহাজারী থানার পুলিশকে তা অভিযোগ করার পরও পুলিশ আসামিদের ধরছে না। আমরা আর কত বলব আসামিদের গ্রেপ্তার করতে। প্রশাসনের কি কোনোই দায়িত্ব নেই?'

তিনি বলেন, 'আজকে আমার মায়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী প্রশাসন। একজন আসামিও গ্রেপ্তার না হওয়ায় মা অনশনে গেছেন। মা হাসপাতালে শয্যাশায়ী; অন্যদিকে খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। ছোট ভাই দিয়াজ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কি সরকারের কাছে ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচারও চাইতে পারব না। '
গত বছরের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে দুই নম্বর গেট এলাকায় নিজের বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দিয়াজের মা বাদী হয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে হত্যা মামলা করেন। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ৭ আগস্ট সব আসামিকে গ্রেপ্তার আদালত নির্দেশ দিলেও এ মামলার কোনো আসামিই গ্রেপ্তার হয়নি এখনো। আদালতের নির্দেশে হাটহাজারী থানার ওসি এই মামলা তদন্ত করছেন।

সাদা কাপড়ের ওপর লাল কালি দিয়ে 'দিয়াজ হত্যাকারী খুনি আনোয়ার, জামশেদ, আলমগীর টিপুসহ সকল হত্যাকারীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অপসারণ চাই' লেখা একটি ব্যানারে গত সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন তাঁর মা জাহেদা। অনশনের দ্বিতীয় দিন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। একই দিন তিনি হাটহাজারী থানা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অনশন করেছেন।


মন্তব্য