টেকনাফ সীমান্তে কয়েক কোটি টাকা দামের ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে দুটি সশস্ত্র দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাঁর স্ত্রীকে আটক করে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফ সীমান্তের শীর্ষ মানবপাচারকারী ও ইয়াবা কারবারি কবির আহমদ ওরফে লম্বা কবিরকে পুলিশ আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাঁকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই জরিমানা পরিশোধ করে ছাড়া পেয়ে যান তিনি। এ নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, পুলিশ কবিরের সম্পর্কে সঠিক তথ্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করেনি। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের সঙ্গে টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা রঙ্গিখালী রাস্তার মাথা এলাকা দিয়ে গতকাল ভোরের দিকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসে। চালান গ্রহণ করার দায়িত্ব নেয় স্থানীয় আবু বকরের নেতৃত্বে একটি দল। সীমান্তের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা কারবারি মিলে নাফ নদ দিয়ে চালানটি মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসে। চালান সরবরাহের দায়িত্বে থাকা হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকার লামার পাড়ার বাসিন্দা বশির আহমদেরও কয়েক লাখ ইয়াবা ছিল ওই চালানে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবার বড় চালানটি পাচারের খবর পেয়ে একই এলাকার সাদেক হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় গাজীপাড়ার একটি সশস্ত্র দল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওত পেতে থাকে। চালান পাচার করার সময় তারা আবু বকরের পায়ে এক রাউন্ড গুলি করে এবং তিন লাখের বেশিসংখ্যক ইয়াবার চালানটি ছিনিয়ে নেয়। এ খবর পেয়ে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ গুলিবিদ্ধ আবু বকরের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ তাঁর স্ত্রী মিনারা বেগমকে (৩০) আটক করে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আটক নারীকে প্রধান আসামি করা হচ্ছে। এ ছাড়া পলাতক ব্যক্তিদের আসামি করা হবে। এদিকে গতকাল টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে আটক করা হয় তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি ও মানবপাচারকারী কবির আহমদকে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযুক্ত এই মানবপাচারকারী তাঁর নিজের সাতটি নৌকা দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পাচার করেছেন। সীমান্তের নানা সূত্রে জানা গেছে, কবির মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করে আসছিলেন। শাহপরীর দ্বীপ অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, কবিরকে আটক করে টেকনাফ থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, গোপন লেনদেনের মাধ্যমে টেকনাফ থানার পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ এই মানবপাচারকারীর সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকপাচারের অভিযোগ আনা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা কবির আহমদকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা পরিশোধ করে বিকেলেই তিনি ছাড়া পেয়ে যান। ছাড়া পাওয়ার পর শাহপরীর দ্বীপের মানবপাচারকারী ও ইয়াবা চোরাচালানচক্রের কয়েক শ সদস্য কবিরকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। তারা শোভাযাত্রার মতো ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাসহকারে তাঁকে আনতে যায়।