kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের বিরোধ প্রকট

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০৬:১৩



চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের বিরোধ প্রকট

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগে বিরোধ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। নগর কমিটির আওতাধীন সাংগঠনিক ওয়ার্ডগুলোতে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন শুরু হয়েছে।

কলেজগুলোতেও চলছে সংগঠনটির পাল্টাপাল্টি কার্যক্রম। ওয়ার্ড পর্ষায়ে নতুন কমিটি গঠনসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। তা শুনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, মহানগর ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টা কর্মসূচি, ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠনসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপের বিষয়টি এক সপ্তাহ আগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের কাছে লিখিতভাবে জানিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে স্থানীয় ছাত্রলীগ। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি প্রায় ১৫ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।  

ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন দেওয়ার সাংগঠনিক এখতিয়ার মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের। অভিযোগ উঠেছে, তারা সম্প্রতি যে চারটি ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের কমিটি দিয়েছেন সেখানে অন্যপক্ষ পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছে।

এ নিয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে সংগঠনে। নিজেদের মধ্যে বিরোধের কারণে নগরে আরো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন খোদ ছাত্রলীগ নেতারাই।  

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগর ছাত্রলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। গত মঙ্গলবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। ওই সময় তাঁরা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড এবং ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তা শুনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  

এ বিষয়ে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করে এবং এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ নিজেদের প্যাডে ছাত্রলীগের (ওয়ার্ড) কমিটি অনুমোদন দিচ্ছেন। দুই দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি (সাধারণ সম্পাদক) মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতার অনুমোদন দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী এসব শুনে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।  

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে যে হস্তক্ষেপ করছেন তাঁকে ছাত্রলীগের সদস্য হওয়ার জন্য ফরম দিও। বলো আমি বলেছি’। সুজন আরো বলেন, ‘দল ক্ষমতায়। আমরা কিভাবে ছাত্রলীগকে ঐক্যের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী করতে পারি সে চেষ্টায় আছি। অন্যদিকে একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ’

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরাই প্রথমবারের মতো প্রায় দুই যুগ পর আমাদের সংগঠনের আওতাধীন ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কমিটি করতে গিয়ে সম্প্রতি আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা যে ওয়ার্ডে নতুন কমিটি করেছি, সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করে করেছি। আমরা (নগর ছাত্রলীগ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একত্রিত হয়ে এরই মধ্যে চারটি ওয়ার্ড কমিটি করেছি। অথচ সেখানে এই কমিটিগুলোর পাল্টা কমিটি দাঁড় করানো হচ্ছে। ’ 

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল—এসব সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়। তখন আমরা সোজা কথায় বলে দিয়েছি আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপ ও কারো কারো বিরোধের কারণে ছাত্রলীগের পক্ষে এই বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। একমাত্র নেত্রীর কাছে এর সমাধান। এক সপ্তাহ আগে আমরা মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রায় ১৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এতে আমরা ছাত্রলীগের কমিটিতে আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে সহযোদ্ধা সম্মেলন, কমার্স কলেজের সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছি। ’

রনি আরো বলেন, ‘গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদক দেখা করতে গেলে সেখানে নেতারা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় নেত্রী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ’

এদিকে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে চলতি মাস থেকে ছাত্রলীগে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কলেজটিতে দীর্ঘদিন ধরে নগর ছাত্রলীগের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সেখানে অন্য একটি অংশ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেছে সম্প্রতি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গত দুই সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা চলছে। ওই কলেজে যেকোনো সময় সংঘাতের আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি লুত্ফুল এহসান শাহ গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করে কলেজে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনলেও এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। বহিরাগতদের এনে কলেজে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করছে। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা নিতে পারেন? আমরা যেকোনো সময় কলেজে সংঘাতের আশঙ্কা করছি। ’ 


মন্তব্য