kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

নাশতার জন্য টাকা চাওয়ায়

বাবার লাথিতে শিশুকন্যার মৃত্যু

দুই বছর পর মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:৫৪



বাবার লাথিতে শিশুকন্যার মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

উম্মে সালমা রীমা নামে ১০ বছরের একটি শিশু হত্যার রহস্য দুই বছর পর উদ্ঘাটন করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঘুম থেকে উঠে ক্ষুধার তাড়নায় নাশতা আনার জন্য টাকা চাওয়ায় জন্মদাতা পিতার লাথিতে মারা যায় রীমা। শুধু তাই নয়, মেয়ে হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শিশুটির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন রীমার বাবা।

২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর নগরের আকবর শাহ থানা এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। দুই বছর পর গতকাল শনিবার সন্দ্বীপ উপজেলা এলাকা থেকে পুলিশ মেয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা মো. আলী ওরফে খোরশেদকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ রীমার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করে গতকাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানায়। তাতে বলা হয়, পেশায় রাজমিস্ত্রি খোরশেদ ২০০৫ সালে পোশাককর্মী রুমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের কোলে আসে কন্যাসন্তান উম্মে সালমা রীমা। খোরশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের ফারুক আহাম্মদের ছেলে। নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী শান্ত নীল চৌধুরীবাড়ির মাজেদার কলোনিতে ভাড়া থাকতেন তাঁরা।

২০১১ সালে খোরশেদ দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এর পর থেকে প্রথম স্ত্রী রুমার সঙ্গে তাঁর ঝগড়া লেগেই থাকত। কাজ না থাকায় খোরশেদ একপর্যায়ে বেকার হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে রুমার বাসায় আসেন তিনি। এসে টাকা চেয়ে না পেলে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরদিন সকাল ৮টায় রান্না না করেই কাজে চলে যান রুমা।

ঘুম থেকে উঠে খোরশেদ খাওয়ার জন্য কিছু না পেয়ে রেগে ওঠেন। পরে রীমা ঘুম থেকে উঠে বাবার কাছে নাশতার জন্য টাকা চাইতে আসে। তখন খোরশেদ পকেটে টাকা না থাকায় উত্তেজিত হয়ে মেয়েকে লাথি মারেন। লাথির ধকল সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় শিশুকন্যা রীমা। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর জ্ঞান না ফেরায় স্ত্রীর ওড়না মেয়ের গলায় পেঁচিয়ে বাসার আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে পালিয়ে যান খোরশেদ। পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে খোরশেদকে ফোনে মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে খবর দিলেও তিনি আসেননি।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এ এ এম হুমায়ুন কবীর জানান, শিশুটির মৃত্যুর পর প্রথমে আত্মহত্যা বিবেচনায় নিয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আবু ছালেক জানান, অভিযান চালিয়ে খোরশেদকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।


মন্তব্য