kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সড়কের বেহাল অবস্থা

নেতা ও জন প্রতিনিধিদের পাশে পাওয়া যায় না

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০৪:২৫



নেতা ও জন প্রতিনিধিদের পাশে পাওয়া যায় না

নগরের ১০ নম্বর সড়কে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল। এর পর থেকে কালুরঘাটমুখী প্রধান সড়কের অবস্থা বেহাল।

এ সড়ক থেকে পুরাতন চান্দগাঁও পেট্রল পাম্পের দিকে গেলে বিপরীত পাশের উপসড়ক ধরে যাওয়া যায় চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায়। এ এলাকার সড়ক দিয়ে ঢুকতেই দেখা যায়, ডোবার মতো অনেক বিশাল গর্ত। কোনোটিতে পানি, আবার কোনোটিতে বালু ও ইটের কণা। বাসিন্দাদের চলাচলের জো নেই। এ সড়ক দিয়ে নগরীর মুরাদপুর-অক্সিজেনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাওয়া যায়। প্রধান সড়কে যানজটের সময় চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার ভেতরের এ সড়ক ব্যবহার করেন যান চালকরা।  

গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে সড়কটির এ করুণ দশা দেখা গেল। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নগরের আরো বেশ কয়েকটি উপসড়ক ও অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙাচোরা সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রধান সড়কের চেয়ে এসব সড়কে মানুষের যাতায়াত বেশি।

প্রধান সড়কগুলোতে দুর্ভোগে পড়ার আগে প্রতিদিনই নগরের বাসিন্দাদের বাসাবাড়ির সামনের সড়কে হেনস্তা হতে হয়।  

চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলম নামের এক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের কোনো সংস্কার নেই। এটি সড়ক নয়, যেন এলাকাবাসীর মরণফাঁদ। ভোট এলে অনেককে দেখা যায়। কিন্তু বিজয়ী হওয়ার পর কারো দেখা যায় না।

স্টেশনারি দোকানের স্বত্বাধিকারী ছোটন দে বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমি এ এলাকায় বসবাস করছি। গত দুই-আড়াই বছর ধরে এই সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। দেখেন না, এখানে মানুষজন হাঁটতে পারছে না।

চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখ থেকে ভেতরে নাথপাড়ার দিকে আসছে কয়েকটি অটোরিকশা, ট্রাক ও রিকশা। একেকটি গর্তের ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে এসব যানবাহনকে। রাস্তার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় বাম পাশের একটি দোকান থেকে এক যুবক উচ্চ স্বরে বলছিলেন, ভাই ছবি তুলে লাভ কি? এখন তো এখানে (চন্দ্রিমা আবাসিক সড়ক) কেউ আসবে না? 

তখন ডান পাশের দুটি দোকানে বসা চার যুবক বললেন, এই ছবিগুলো কি জন্য তুলছেন? পরিচয় পাওয়ার পর নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, এখানে রাজনৈতিক নেতা বেশি তো, তাই এই সড়কটি মেরামত হচ্ছে না। লোকজন শুধু ভোট দেয়। ভোটে জনপ্রতিনিধি হলেও নির্বাচনের পর তাঁদের আর দেখা যায় না। জনগণের কষ্টে নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের পাশে পাওয়া যায় না।

ওই সময় অন্য এক ব্যক্তি বলেন, ভাই আপনারা একটু ভালো করে লেখেন, যাতে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে আমাদের এ সড়কটি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে।

চন্দ্রিমা আবাসিক সড়ক (উপসড়ক) থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে নগরের সিঅ্যান্ডবি তিন রাস্তার মোড়। মোড়ের বাম পাশে ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের জন্য রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ চলছে। ডান পাশে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় গর্ত। প্রবেশমুখের বেহাল অবস্থা। সেখান থেকে বাণিজ্যিক এলাকা বিএফআইডিসি রোড (উপসড়ক) দিয়ে ঢুকতেই দেখা গেল, রাস্তার ডান পাশে পিচ প্রায় উঠে গেছে। ভাঙাচোরা, কোথাও কোথাও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পানি জমে আছে। আর পানিতে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে। ওই সড়কের আশপাশে কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকা। সেখানে বিসিক শিল্প এলাকাও। কয়েক শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকার উপসড়কগুলো বেশির ভাগেরই বেহাল অবস্থা।

দুপুর ১২টা। বার্জার পেইন্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশে আর্ট গাছতলা সড়ক। সড়কের মুখে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় কুতুবউদ্দিন কফিল নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এই সড়ক দিয়ে তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শ্রমিকের পাশাপাশি এলাকাবাসী যাতায়াত করে। সড়কটি মেরামত হচ্ছে না অনেক দিন ধরে। শুনেছি বরাদ্দের পর কার্যাদেশ হয়েছে। কিন্তু কাজ কখন শুরু হবে তা আমরা জানি না। হেঁটে যেতে কষ্ট হয়। গাড়ি নিয়ে যাওয়া আরো দুরূহ। তিনি জানান, কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকায় চার-পাঁচ শ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু উপসড়ক ও অলিগলিগুলোর অবস্থা নাজুক। কারো মাথাব্যথা নেই।

সেখান থেকে বিএডিসির সামনে এসে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের বিপরীত পাশে বিসিক শিল্প নগরীর সড়ক। এই উপসড়কে পিচ নেই। বালু, কাদা ও পানিতে সড়কের অবস্থা বেহাল। সোয়া ১২টায় বিসিক রোডের মুখে মো. ইসমাইল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি আর কি বলব, দেখতেই পাচ্ছেন সড়কটির অবস্থা। আমি গাড়ি চালাই। গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভাঙা হলেও আয়-রোজগারের জন্য আমাদের গাড়ি চালাতে হয়। ’

এফআইডিসি রোডের শাপলা ক্লাবের পাশে একটি গলিতে গিয়ে দেখা গেল, অবস্থা বেশ নাজুক। ভেঙেচুরে চৌচির হয়ে গেছে সড়ক। এর পাশাপাশি নগরের বাস টার্মিনাল থেকে বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার আসার পথে সংযোগ সড়ক, খাজা রোড, বলির হাট, চকবাজার ডিসি রোড, দেওয়ানহাট থেকে এক্সেস রোডে যাওয়ার সড়ক, মাঝিরঘাট, সদরঘাট, ফিরিঙ্গিবাজার থেকে সদরঘাট তিন রাস্তার মোড়, নালাপাড়া, আইস ফ্যাক্টরি রোড, দুই নম্বর গেট আদর্শ পাড়া, সিইউপিজেড এলাকার আশপাশে উপসড়ক, বিভিন্ন কসমোপলিটন, পলিটেকনিক থেকে খুলশী, টাইগারপাস থেকে আমবাগান, ঝাউতলা, ওয়্যারলেস, আতুরারডিপো থেকে চাইল্যাতলী, বিবিরহাট গরুর বাজারের পর থেকে রেললাইন হয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, ফরেস্ট অফিস, অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কসহ নগরের অনেক উপসড়ক ও অলিগলির বেহাল অবস্থা।

মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বলছে, প্রধান সড়কগুলোর চেয়ে উপসড়কগুলোর অবস্থা অনেকটা ভালো। যে সড়কগুলোর অবস্থা খারাপ সেগুলোর মেরামতকাজ চলছে।


মন্তব্য