kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

পেকুয়ায় শ্রমিক দলের সভায় হামলার অভিযোগ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০৫:২৫



পেকুয়ায় শ্রমিক দলের সভায় হামলার অভিযোগ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দলের সভায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এ সময় ওই সভা ভণ্ডুল করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে গুলি বিদ্ধ হয়ে এক যুবদল নেতা ও এক শ্রমিক দল নেতা আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এ সময় আরো এক শিশু (কিশোরী) গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে প্রচার হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আবু জাফর নামক এক বিএনপি নেতাকে আটক করা হয়েছে- এমন তথ্য স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেও পুলিশ জানিয়েছে, কাউকে আটক করা হয়নি।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভোলা খালের পাড়ে জালিয়াকাটাস্থ বিএনপি নেতা আবু জাফরের পরিত্যক্ত বাড়িতে শ্রমিক দলের ওই সভা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে।

বিএনপি এই ঘটনার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করলেও আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হামলার ঘটনা সংঘটিত করেছে। কিন্তু এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে তারা উল্টো সরকারি দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।  

পেকুয়া উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামরান জাদিদ মুকুট গতরাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ (গতকাল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জালিয়াকাটায় একটি বাড়িতে বারবাকিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সম্মেলন শুরু হয়। এর পরপরই আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই সম্মেলনে একযোগে হামলা ও গুলি চালায়। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচ-ছয়জন আহত হয়।

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ আহতরা হলেন পেকুয়া সদর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও নুরুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (২৫) এবং উপজেলা যুবদলের প্রস্তাবিত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফাঁসিয়াখালী গ্রামের মো. ইসমাইল (৪৮)। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়নি, তারা স্থানীয় ডাক্তারের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। তবে আহত অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি মুকুট।

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, কয়েক দিন ধরে পেকুয়ার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে বিএনপি ও জামায়াত মিলে বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠক করার চেষ্টা করে আসছিল। তবে পুলিশ এবং স্থানীয় সচেতন লোকজনের তৎপরতার কারণে তারা সফল হয়নি। একইভাবে আজ (গতকাল) রাতেও বারবাকিয়ার জালিয়াকাটায় বিএনপি নেতা আবু জাফরের পরিত্যক্ত বাড়িতে গোপন বৈঠকে মিলিত হয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।  

গোপন বৈঠকটির অসৎ উদ্দেশ্য থাকায় স্থানীয় জনগণ বুঝতে পেরে তা পণ্ড করে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছে, নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নেই।

পেকুয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিক দলের ওই মিটিংয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে সামান্য ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলি ছোড়া এবং কেউ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পুলিশের কাছে নেই। এরপরও ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটকও করা হয়নি।


মন্তব্য