kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

দালালদের মাধ্যমে কেরামতি প্রচার করে ভণ্ড ফকির ছোটন

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:৩২



দালালদের মাধ্যমে কেরামতি প্রচার করে ভণ্ড ফকির ছোটন

রাউজানের ভণ্ড ফকির মো. ছোটন (২২) একসময় সাদাসিধে ছেলে ছিল। কদলপুর স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়।

এরপর পাশের পাহাড়ে গিয়ে লাকড়ি কাটত। গরু চরাতে যেত পাহাড়ে। গত পাঁচ বছর আগে সে নিজেকে প্রখ্যাত অলি আশরাফ শাহের (রহ.) খলিফা আবু শাহের বংশধর দাবি করে আসছিল।  

একদিন পাহাড় থেকে এসে প্রচার করে, সে আশরাফ শাহের অলৌকিক কেরামতি পেয়েছে। এরপর দালালদের মাধ্যমে নিজেকে ফকির দাবি এবং তাবিজ-কবজের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার ভণ্ডামি প্রকাশ পায়।

কথিত ফকির ছোটন দালালদের মাধ্যমে ফকির সেজে পানিপড়া, তাবিজ-কবজ দেওয়া শুরু করে। তার বাড়ি কদলপুরের সিকদারপাড়ায় আবু শাহর মাজার এলাকায়। কথিত আধ্যাত্মিক জ্ঞান পাওয়ার পর সে কিছুদিনের মধ্যে আশরাফ শাহের মাজার গেটসংলগ্ন কবরস্থানের উত্তর পাশে নতুন ঘর করে।

সেখানে নিজস্ব আস্তানা করে জোরদার করে তাবিজ-কবজ ব্যবসা।  

এরপর তার তৈরি করা কিছু নারী-পুরুষ দালাল প্রচার করে, ছোটন বড় আধ্যাত্মিক সাধক। দালালদের প্রচারের কারণে তার কাছে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ নানা সমস্যা নিয়ে আসতে থাকে। তাদের কাছ থেকে নানা ছলচাতুরী করে সে লাখ লাখ টাকা আয় করছিল। এসব তথ্য জানা গেছে পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, প্যানেল চেয়ারম্যান কমল চক্রবর্তীসহ এলাকার অনেকের কাছে।  

এদিকে ভণ্ড ফকির ছোটনের পক্ষে সাফাই গাওয়ার লোকও কম পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে কদলপুর ইউপির সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের মেম্বার রাশেদা আকতার ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ ইছাকও রয়েছেন। তাঁরা গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাঁদের কিশোরী মেয়ে জিনের আছরে বোবা হয়ে গেলে ছোট ফকির মেয়েটির বাকশক্তি ফিরিয়ে দেন। কিন্তু স্থানীয়রা জানায়, রাশেদা মেম্বারের মেয়ে প্রকৃতপক্ষে কখনোই বাকপ্রতিবন্ধী ছিল না।  

এলাকাবাসী জানায়, ভণ্ডামি করে ছোটন প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছে। তার টাকায় কিছু দালাল এলাকায় সুদের বাণিজ্যও করছে। তাদের মধ্যে রাশেদা মেম্বার ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ ইছাক, কদলপুরের মো. ফরহাদ, একই ইউনিয়নের শাকিল, পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ও তার ভাগিনা মো. আরিফ, দণ্ডপ্রাপ্ত কদলপুরের শাকিল মাহামুদ, ফরহাদসহ অনেকে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে ছোটন নিজের নাড়িভুঁড়ি কেটে বের করার পর তা পুকুরে পরিষ্কার (ধুয়ে) করে আবার পেটের ভেতর ঢুকিয়েছে, হঠাৎ এমন অলৌকিক গুজব ছড়ায় ছোটন ও তার ভক্তরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ অপপ্রচারের পর হাজার হাজার নারী-পুরুষ জমায়েত হয় পানিপড়া ও তাবিজ নিতে। এই খবরে পুলিশ ছোটনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালত ভণ্ডামির দায়ে তাকে জেল দেয়। এ ঘটনা এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করে। মুখ খুলতে থাকে সাধারণ মানুষ।

 


মন্তব্য