kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

ব্যবহারকারীদের বিক্ষোভ, বন্দর ভবনে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৫:৫৯



ব্যবহারকারীদের বিক্ষোভ, বন্দর ভবনে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ

চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে ব্যবহারকারীদের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।  

বন্দর সূত্র জানায়, গত সোমবার বন্দর ভবনের নিচতলায় ‘ভিজিটরস অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম’ অর্থাৎ দর্শনার্থীরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর ভোগান্তির মুখে পড়েন শিপিং এজেন্টসের কর্মকর্তারা।

বন্দরের জলসীমায় পণ্যবাহী জাহাজ কখন আসবে তা ঘোষণা দেওয়ার জন্য (বার্থিং মিটিং) প্রতিদিন তাঁদের বন্দর ভবনে যেতে হয়। বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আলোচনা করতে হয়। প্রথম দিন বাধা পেয়েই তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁরা নির্ধারিত বার্থিং সভা বর্জন করেন।

জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যাতে সব সময় সচল থাকে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ ঘণ্টা বন্দর-কাস্টমস সচল রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা পেতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু বন্দরের নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্ত সেই নির্দেশনার ব্যত্যয় হবে। বন্দর কার্যক্রম অনলাইন না হওয়ায় আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে বন্দর ভবনে প্রবেশ করতে হয়। অনলাইন হলে বন্দর ভবনে যাওয়ার দরকার হতো না।

’ 

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতির আওতায় কোনো ব্যবহারকারী বন্দর ভবনে ঢুকতে হলে প্রথমে বন্দর ভবনের নিচতলায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে যেতে হবে। সেখানে ক্রম অনুযায়ী নাম তালিকাভুক্ত করতে হবে। যেমন—খাতায় নিজের নাম, ঠিকানা, কার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন, কী বিষয়ে সাক্ষাৎ করবেন তা বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে। এরপর র্শনার্থী যাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি আদায় করবেন বন্দরকর্মীরা। এরপর অনুমতিপত্র পাঠাতে হবে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে। এই অনুমতিপত্র পেতে যত দেরি হবে দর্শনার্থীকে ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।  

এ বিষয়ে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিনিয়ত জরুরি প্রয়োজনে বন্দরে ঢুকতে যদি বারবার অনুমতির জন্য বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাহলে তো দূরত্ব তৈরি হবে। কাজের গতি কমবে, রাজস্ব আয়ও কমবে। জটিলতা তৈরি হবে। এটি কার স্বার্থে করা হচ্ছে?’
শিপিং এজেন্টস কর্মকর্তাদের প্রতিদিন বন্দর ভবনে যেতে হয়। সেবা পেতে এভাবে প্রতিদিন নাম, পরিচয় লেখার পরও অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে সময়ক্ষেপণের কারণে তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। শিপিং এজেন্টস কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে সাময়িকভাবে এই পদ্ধতি শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ।  

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানায়, বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড হলো সংরক্ষিত এলাকা। সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ব্যবহারকারীদের পরিচিতি কার্ড দেওয়া হয়। সেই কার্ড ব্যবহার করে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে পণ্য খালাসসহ যাবতীয় কার্যক্রম করেন ব্যবহারকারীরা। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী জেটি ও ইয়ার্ড এলাকায় নিরাপত্তা তদারকি রাখতে হয়।

তবে বন্দর ভবন স্কর্শকাতর স্থান নয়। এখানে মূলত প্রশাসনিক ও পরিচালন কার্যক্রম সম্কর্কিত নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্দর ভবনের পাশে অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁও রয়েছে। আছে একটি ব্যাংকের কার্যালয়ও।  

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানায়, উন্নত বিশ্বের বন্দরগুলোতে ব্যবহারকারীদের বন্দরের কার্যালয়ে গিয়ে সেবা নিতে হয় না। কারণ সেখানে অফিসে বসে ব্যবহারকারীরা সেবা পান। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে এখনো পুরোপুরি অনলাইন ব্যবস্থা চালু হয়নি। যেমন—ছয় বছর আগে কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হওয়ার পর বার্থিং সভায় আসতে হবে না বলে উদ্যোগ নিয়েছিল বন্দর। এটি এখনো অনলাইনভিত্তিক হয়নি।


মন্তব্য