kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

স্ত্রীর সাহসিকতায় দুর্বৃত্তের বন্দুকের মুখ থেকে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ০৬:৪৩



স্ত্রীর সাহসিকতায় দুর্বৃত্তের বন্দুকের মুখ থেকে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী

চট্টগ্রামের রাউজানে স্ত্রীর সাহসিকতায় দুর্বৃত্তের বন্দুকের মুখ থেকে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী। রজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা স্বামীকে গুলি করতে গেলে দুই দুর্বৃত্তকে পেছন থেকে কুপিয়ে জখম করেন স্ত্রী।

ফলে নিজেরে প্রাণ নিয়েই পালাতে হয় দুর্বৃত্তদের। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামে গত সোমবার দিবাগত রাতে।  

এলাকার মেম্বার মোহাম্মদ আলীসহ অনেকে জানায়, হলদিয়ার দুর্লভ কাজীবাড়ীর মৃত শামসুল আলমের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্কাক জাহেদুল আলম হিরুকে হত্যা করতে এসেছিল দুর্বৃত্তরা। তাঁর স্ত্রীর প্রতিরোধে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। ঘটনার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এএসপি ঘটনাস্থল পরির্শন করেছেন। হিরু বলেছেন, তাঁর চাচার হত্যা মামলার আসামিদের পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

হিরুর স্ত্রী পারভিন আকতার বলেন, 'ঘরে আমার দুই ছেলে ও শাশুড়ি ছিল না। সোমবার বিাগত রাত পৌনে ২টার দিকে ঘরের উত্তর পাশের জানালা দিয়ে রাউজান থানা পুলিশের এসআই সাইমুলের পরিচয় দিয়ে তিন দুর্বৃত্ত দরজা খুলতে বলে। এরপর মুখোশ ও ক্যাপ পরা তিনজন সামনের দরজার হুক ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে আমার স্বামীকে মারতে থাকে।

আমাকেও লাথি মারে। তারে একজন লুটপাট চালায়। আর একজন আমার স্বামীকে ধরে রাখে এবং অন্যজন তার মাথায় গুলি করার চষ্টো করে।

এ সময় গুলি আটকে যায় এবং একটি গুলি নিচে পড়ে যায়। আরেকটি গুলি অস্রের মধ্যে ঢোকাতে গেলে সেটিও পড়ে যায়। এ সময় আমি অন্য রুম থেকে একটি রামদা এনে যে দুর্বৃত্ত আমার স্বামীর মাথায় গুলি তাক করেছে, তার ডান কাঁধে কোপাতে থাকলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

এ সময় অন্যজন লুটিয়ে পড়া লোকটিকে ধরাধরি করার চষ্টো করলে তার কপালেও কোপ ইে। এরপর দুজন মিলে গুরুতর আহত দুর্বৃত্তদেরকে ধরাধরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। ' পারভিন আকতার জানান, বাইরে আরো কয়েকজন অপেক্ষমাণ থাকায় ওরে আর আটকে রাখার চষ্টো তাঁরা করেননি।  

জাহেদুল আলম হিরু বলেন, 'এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়, চার বছর আগে হলদিয়া রাবার বাগানে আমার প্রতিবেশী চাচা ও আমার ব্যবসায়িক সহযোগী নাছির উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করে কিছু সন্ত্রাসী। ওই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহায়তা করেছিলাম। তারা বিএনপি সমর্থিত সন্ত্রাসী। তারা সুযোগ পেয়ে আবার এলাকায় এসে আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে আমাকে খুনের উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ' হিরু জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ি হলদিয়া ইউনিয়নে। তিনি বলেন, 'কিছু সন্ত্রাসী হলদিয়ায় উত্পাত শুরু করেছে। যুবলীগ নেতা জাহেদুল আলম হিরুকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।  

ঘটনার পর রাতেই হিরুর ঘর পরিদর্শন করেছেন ওসি কেপায়েত উল্লাহ। গতকাল দুপুরে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের এএসপি জাহাঙ্গীর আলমও সেখানে গেছেন। ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন, 'ঘটনাটি তদন্ত করে খো হচ্ছে। তদন্তের পর বলা যাবে আসল ঘটনা কী। '


মন্তব্য