kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

আরবি পড়তে সেই বাড়িতে গিয়েছিল তানিশা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ১৪:৩৪



আরবি পড়তে সেই বাড়িতে গিয়েছিল তানিশা

প্রতিদিনের মতোই সাবিনা ইয়াসমিন সংসারের কাজ করছিলেন। স্বামী কোনো কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন।

ছেলেমেয়েরা খেলা করছিল। বোন মর্জিনা আরবি পড়াচ্ছিলেন এক শিশুকে। কয়েক দিন আগে বেড়াতে আসা ভাই শাহাদাতও ছিলেন বাসায়। হঠাৎ তারা সবাই দেখেন বাড়িটি ঘিরে ফেলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাড়ির অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে ভেতরে আটকা পড়ে তানিশাও। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় অস্থির হয়ে পড়েন তার স্বজনরা। অবরুদ্ধ ওই বাড়িতে জঙ্গিদের গ্রেনেড ও আত্মঘাতী হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরু হলে তাদের সেই উদ্বেগ পরিণত হয় আতঙ্কে। এতকিছুর পর তানিশাসহ অন্য জিম্মিদের যে ছায়ানীড় থেকে জীবিত উদ্ধারের আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন তানিশার নানা নিজাম উদ্দিন।

নিজাম উদ্দিন বলেন, আরবি পড়তে গিয়ে ওই বাড়ির ভেতর আটকা পড়েছিল তানিশা।

তারা (অবরুদ্ধ লোকজন) যে বেঁচে ফিরবে, এই আশা আমরা ছেড়েই দিয়েছিলাম। তানিশা খুব ভয় পেয়েছে। ও রীতিমতো আতঙ্কিত অবস্থায় আছে। এখনও ঠিকমতো কথাই বলতে পারছে না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফরিদ আহমেদ জানান, গ্যাসের কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট ও বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসার পর সেরে উঠবে। অভিযান চলাকালে গ্যাসের কারণে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই পরিবারের সদস্যরা। মাহমুদা সুলতানা তানিশাও অসুস্থ। তাদের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাবিনা ইয়াসমিন (৩০) একটু বেশি অসুস্থ থাকায় কথা বলতে পারেননি। তার সাত বছরের মেয়ে ফাইরুজা হুমায়রা (৭) ও হেমায়েতউদ্দিন ইনানও (৪) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আতঙ্কিত শিশুরা মায়ের কাছে যেতে চাইছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৬টা থেকে ছায়ানীড়ের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন নামের এই অভিযানে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সোয়াত টিমের নেতৃত্বে অংশ নেন চট্টগ্রাম সোয়াত, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। অভিযান শুরুর পর সোয়াত সদস্যদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। অভিযানে নব্য জেএমবির সদস্য এক নারী ও তিন পুরুষ জঙ্গি নিহত হয়েছে। অভিযানে আহত হন সোয়াতের দুজন, পুলিশের একজন ও ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য।

অভিযান শেষ হওয়ার পর এই বাড়ি থেকে ২০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম। ডিআইজি আরও জানান, অপারেশন শেষে এখন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বাসার ভেতরে প্রবেশ করছে। তারা বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার পর সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকায় নামারবাজারে সাধনকুটির নামের একটি বাড়ি থেকে জসিম ও আরজিনা নামের দুই জঙ্গিকে আটক করে পুলিশ। ওই নারীর গায়ে আত্মঘাতী হামলার ভেস্ট ছিল। সাধনকুটির থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

 


মন্তব্য