kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

বৃদ্ধাশ্রমে নয়, পরিবারেই থাকি মিলেমিশে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ১৮:২৪



বৃদ্ধাশ্রমে নয়, পরিবারেই থাকি মিলেমিশে

সেন্টার অব সোস্যাল এন্ড এনভায়রোনমেন্টাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন গত ১০ মার্চ আমেনা বশর বয়স্ক পুনর্বাসন  কেন্দ্র নোয়াপাড়া, রাউজান এ তাদের বিভাগীয় পর্যায়ের ‘গুরুজন’ আসর এর ফলোআপ পর্যালোচনা করে। এই সভায় সিএসইআরএফ দেশব্যাপী পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্যে 'বৃদ্ধাশ্রমে নয় পরিবারেই থাকি মিলেমিশে' স্লোগান প্রচার করে।

সভায় আমেনা বশর বয়স্ক পূনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জনাব শামসুল আলম বলেন, “বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে আমি ভুল করেছি। কেউ যখন আমার এই আশ্রম থেকে পরিবারে ফিরে যায় সেটাই আমার স্বার্থকতা মনে করি”। সিএসইআরএফ এর নির্বাহী পরিচালক সাবিনা সিদ্দিক বলেন, “ পারিবারিক বন্ধন ফিরিয়ে আনা আমাদের লক্ষ্য। গুরুজন দের নিয়ে সারা দেশব্যাপী আমরা গবেষনা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কিভাবে আমাদের সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে এনে, পরিবারে মিলেমিশে থাকা যায় সেই পরামর্শ আমরা গুরুজনদের কাছেই প্রত্যাশা করি”।

প্রাক্তন বিচারপতি আজিজুল হক বলেন,পিতা-মাতার উচিৎ সন্তানকে আদর্শ সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া যেন, তারা পিতা-মাতার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে। তিনি বলেন, প্রবীনরা পরিবারের বোঝা নয় এবং তারা সম্পদ”। নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানে আলম বলেন, “অনেক সময় বৃদ্ধ বয়সে মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে যায়। তাদের বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমের প্রয়োজনীয়তা আছে তবে বয়স্কদের মেধা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জীবনে সাফল্য লাভ করা যায়।

এই জন্য পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে হবে”।

পূনর্বাসন কেন্দ্রে বসবাসরত প্রধান দুলাল দাশ বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে আমার সন্তানরা আমার পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। তিনি আরো বলেন,“সিএসইআরএফ যে মিশন শুরু করেছে তা যেন দেশব্যাপী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে।

নমীতা রানী সেন যার পরিবারে কেউ নেই। ভারতে আত্মীয় থাকা স্বত্ত্বেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিজ জন্মভূমিতে থাকার, তাই তিনি এই পূনর্বাসন কেন্দ্রে বসবাস করছেন। আরেকজন প্রবীন অধিবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সিএসইআরএফ এর গুরুজন আসর অনুষ্ঠানে তাদের কার্যক্রম দেখে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি। এই ধরনের আয়োজন সমাজে আমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে।

প্রধান অধিকারী আবুল হাসেম বলেন, সন্তানরা যদি আমাকে ন্যূনতম সম্মান দিতো। তবে আমি এখানে থাকতাম না। এই বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা না হলে আমার মত অনেকেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হতো। আমি আর ঘরে ফিরে যেতে চায় না। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি জানান।

উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সম্মানিত অধ্যাপক জনাব হারুনুল ইসলাম, সিএসইআরএফ এর নির্বাহী সদস্য আনিসুর রহমান, রিসার্চ ফেলো শামীমা আকতার ও সিএসইআরএফ এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ইমরান হোসেন।

উল্লেখ্য গত ২৮ই ফেব্রুয়ারী লোক প্রশাসন আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আসকার দীঘির পাড় এ সিএসইআরএফ গুরুজন আসর নামে একটি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রবীনদের মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যার ফলোআপ কর্মসূচী হিসেবে আজকে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 'বৃদ্ধাশ্রমে নয়, পরিবারেই থাকি মিলেমিশে। '  

 


মন্তব্য