kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

যৌতুক মামলায় চট্টগ্রামে অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াতের আত্মসমর্পণ

আদালত প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ২০:৫৯



যৌতুক মামলায় চট্টগ্রামে অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াতের আত্মসমর্পণ

চট্টগ্রাম রেঞ্জে কর্মরত পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াত হোসেন তার স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তার স্ত্রী ফারজানা শারমিন হোসেন মামলা দয়েরের পর সাখাওয়াতকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।  

আজ রবিবার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই-এর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন সাখাওয়াত হোসেন। আদালতে তার পক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী নজিব উল্লাহ হিরু শুনানি করেন। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।  

ষাট (৬০) লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে না পেয়ে নির্যাতনের অভিযোগ এনে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী যৌতুক আইনের ৪ ধারায় নালিশী মামলা করেন। ওই দিন বাদির অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।  

মামলার আরজিতে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে ফারজানার সঙ্গে সাখাওয়াতের বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হত। এ অবস্থার মধ্যেই বাদিনী জানতে পারেন, আসামি পুলিশের এসআই সাফায়েত হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

এর কারণ জানতে চাইলে আসামি তাকে মারধর করেন। তারপরও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাদিনী সব অত্যাচার সহ্য করেন।  

গত বছরের ১১ মার্চ রাজধানীর গ্রীন রোডের ৬৯/বি নম্বরস্থ বাদিনীর পিতার বাসায় সাখাওয়াত হোসেন তার স্ত্রী ফারজানাকে বলেন, ‘সব সহকর্মী ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছে, আমার কোন ফ্ল্যাট নাই। একজন ডেভেলপারের সঙ্গে কথা বলেছি, ৬০ লাখ টাকা হলে মিরপুর এলাকায় একটি ফ্ল্যাট পাওয়া যাবে।  

তোর বাবা একজন উচ্চ পদস্থ পুলিশ অফিসার ছিলেন। চাকুরী জীবনে বহু টাকা পয়সা রোজগার করেছেন। ব্যাংক একাউন্টে অনেক টাকা আছে। তার কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা এনে দাও। আমি একটি ফ্ল্যাট কিনবো। টাকা দিতে রাজী না হলে সাখাওয়াত ক্ষিপ্ত হয়ে বাদিনীকে প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন করে।  

ওই বছরের ১৪ নভেম্বর আসামি বাদিনীদের বাসায় আসলে যথারীতি আপ্যায়নের পর বাদিনীর পিতা টাকা দিতে অপরাগতা জানায়। ১৮ নভেম্বর বাদিনীর পিতা ও চাচা আসামিকে টাকা দিতে পারবেন না বলে আবার জানান। তখন আসামি বলেন, ‘ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৬০ লাখ টাকা না দিলে আপনাদের মেয়েকে তালাক দিয়ে আমি অন্যত্র বিয়ে করবো। ’ 

যাওয়ার সময় সে আরও বলে, ‘আমি বর্তমানে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত আছি, যদি কোন মামলা মোকদ্দমা করিস তাহলে সবাইকে দেখে নেব, জেলের ভাত খাওয়াবো। ’

এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ফারজানা শারমীন হোসেন বাদী হয়ে যৌতুক আইনের ৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।


মন্তব্য