|
|
নির্মাণ শুরুর আগেই জটিলতা হাইটেক পার্কেপ্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা
আরিফুর রহমান
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য দেশের প্রথম হাইটেক পার্ক নির্মাণকাজ শুরুর আগেই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে গত বছরের জুলাইয়ে হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রস্তাবিত এ হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ শুরু কবে, তাও বলতে পারছেন না তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা! নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৫৪৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকি ৫৪৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা ছাড়াই এ প্রকল্পে রেললাইনে যোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। অথচ রেল নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে। বিষয়টি খুবই হাস্যকর।'
হাইটেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মোহাম্মদ আমিন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের আওতায় রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি শুরুতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। তবে পরে জানানো হলেও এখনো সিদ্ধান্ত দিতে দেরি করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে রেল নির্মাণের অনুমতি চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ওই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর 'সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অব কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক' শীর্ষক প্রকল্পের ওপর বিশেষ মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই কমিটির সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রেললাইন নির্মিত হবে এবং সেই রেললাইন রেলপথ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। এমন কথা শোনার পর পরিকল্পনা কমিশন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। কারণ কমিশন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাই বিষয়টি জানেন না। অথচ প্রকল্পের মধ্যে রেললাইন নির্মাণের অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরে ত্রিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত হয় যে রেললাইন নির্মাণে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। এরপর রেলপথ মন্ত্রণালয় ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। তারপর প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, উভয় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এখনো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য এখনো পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। অথচ এখনো প্রকল্পের কাজ শুরুই করা সম্ভব হয়নি। গত বছর কাজ শুরু হলে এখন প্রকল্পের কাজ অর্ধেক শেষ হয়ে যেত। তিনি বলেন, জয়দেবপুর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত রেললাইন নির্মিত হবে, অথচ তা রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা ও বৈঠক করা হয়নি। এ ছাড়া রেলপথ নির্মাণে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। কী পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, কয়টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে_এগুলোর কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। সিগন্যাল ব্যবস্থাও রাখতে হবে। অথচ এসব খাতে মোট কত ব্যয় হবে, তার নির্ধারিত কোনো হিসাব নেই।
এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পে ঋণ নিতে গত বছরের ২২ মে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আগস্টে ঋণচুক্তি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু কোনো অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না। কারণ প্রকল্পের কাজ তো শুরুই হয়নি।
সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণ ছাড়াও সরকার শিল্প প্লটের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস ও মালামাল পরিবহনে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অন্যান্য সুবিধা দেবে। আর হাইটেক পার্ক উন্নয়নের কাজ পিপিপির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে।
'সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অব কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক' শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ, প্রশিক্ষিত জনবল ও ম্যানুয়াল তৈরি, মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ এবং টানেল তৈরি করা হবে। এ ছাড়া আইসিটি-সংক্রান্ত আধুনিক হাইটেক শিল্প স্থাপনে বিশ্বমানের হাইটেক পার্ক তৈরি এবং হাইটেক পার্ক-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।
আরিফুর রহমানপ্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৫৪৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাকি ৫৪৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংক ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা ছাড়াই এ প্রকল্পে রেললাইনে যোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। অথচ রেল নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে। বিষয়টি খুবই হাস্যকর।'
হাইটেক পার্কের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মোহাম্মদ আমিন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের আওতায় রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি শুরুতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। তবে পরে জানানো হলেও এখনো সিদ্ধান্ত দিতে দেরি করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ জন্য প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে রেল নির্মাণের অনুমতি চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ওই চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর 'সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অব কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক' শীর্ষক প্রকল্পের ওপর বিশেষ মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই কমিটির সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রেললাইন নির্মিত হবে এবং সেই রেললাইন রেলপথ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। এমন কথা শোনার পর পরিকল্পনা কমিশন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। কারণ কমিশন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাই বিষয়টি জানেন না। অথচ প্রকল্পের মধ্যে রেললাইন নির্মাণের অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরে ত্রিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত হয় যে রেললাইন নির্মাণে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। এরপর রেলপথ মন্ত্রণালয় ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। তারপর প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, উভয় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এখনো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য এখনো পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। অথচ এখনো প্রকল্পের কাজ শুরুই করা সম্ভব হয়নি। গত বছর কাজ শুরু হলে এখন প্রকল্পের কাজ অর্ধেক শেষ হয়ে যেত। তিনি বলেন, জয়দেবপুর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত রেললাইন নির্মিত হবে, অথচ তা রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা ও বৈঠক করা হয়নি। এ ছাড়া রেলপথ নির্মাণে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। কী পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, কয়টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে_এগুলোর কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। সিগন্যাল ব্যবস্থাও রাখতে হবে। অথচ এসব খাতে মোট কত ব্যয় হবে, তার নির্ধারিত কোনো হিসাব নেই।
এদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পে ঋণ নিতে গত বছরের ২২ মে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। আগস্টে ঋণচুক্তি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু কোনো অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না। কারণ প্রকল্পের কাজ তো শুরুই হয়নি।
সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণ ছাড়াও সরকার শিল্প প্লটের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস ও মালামাল পরিবহনে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অন্যান্য সুবিধা দেবে। আর হাইটেক পার্ক উন্নয়নের কাজ পিপিপির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে।
'সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অব কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক' শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ, প্রশিক্ষিত জনবল ও ম্যানুয়াল তৈরি, মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ এবং টানেল তৈরি করা হবে। এ ছাড়া আইসিটি-সংক্রান্ত আধুনিক হাইটেক শিল্প স্থাপনে বিশ্বমানের হাইটেক পার্ক তৈরি এবং হাইটেক পার্ক-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।
শিল্প বাণিজ্য -এর আরো সংবাদ
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com








