|
|
শতাব্দী প্রাচীন আইন সংশোধনের উদ্যোগ১৪ বছর পর বাড়ছে নানা স্ট্যাম্পের দাম
আবুল কাশেম
১৪ বছর পর ৭৭ ধরনের স্ট্যাম্পের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯ সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। বিভিন্ন চুক্তি, বিবাহ বিচ্ছেদ, ওকালতি চর্চার অনুমতি নেওয়া, কেনাবেচা, মামলা, রিসিপ্ট গ্রহণ, প্রশাসনিক বন্ড, এফিডেভিট, সার্টিফিকেট, কাস্টমস বন্ড, ডিবেঞ্চার, শেয়ার বরাদ্দ, ঋণপত্র, রেজিস্ট্রেশন পত্র, বন্ধকি চুক্তি, নোটারি স্ট্যাম্প, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, সিকিউরিটি বন্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের শুল্কহার বাড়ানোর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। কোনো স্ট্যাম্পের শুল্কহার তিন টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকাও নির্ধারণ করা হচ্ছে! আবার কোনোটি পাঁচ পয়সা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১০ টাকা! জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদনের পর আগামী অর্থবছর থেকে নতুন এ শুল্কহার কার্যকর করবে সরকার।
সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত হিসেবে চিহ্নিত হলেও পুরনো শুল্কহারের কারণে এত দিন কর-বহির্ভূত খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আহরণ হয়নি। ফলে ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়তে থাকে। অর্থনীতিবিষয়ক সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইকোনমিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে গবেষক, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টদের চলমান প্রাক বাজেট আলোচনায় কর-বহির্ভূত রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই স্ট্যাম্প আইন সংশোধন করে এসব শুল্কহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, কর-বহির্ভূত রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব শুল্কহার কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো নতুন দামের খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার কর-বহির্ভূত রাজস্ব খাত থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এ জন্য স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯-এর স্ট্যাম্পের শুল্কহার সংশোধন করে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজ ন্য গত ১৭ জানুয়ারি এ বিভাগের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় সভার পর গত ৩১ জানুয়ারি ও ৯ ফেব্রুয়ারি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সমন্বয়ে আরো দুটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এসব সভায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্ট্যাম্প শুল্কের তুলনামূলক বিবরণীর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ড এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধকি সম্পত্তি নিষ্পত্তি, বিক্রি বা হস্তান্তরের স্ট্যাম্প ফি এখন আছে তিন টাকা_এটি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে! প্রশাসনিক বন্ডের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা, ৮০ থেকে ২০০ টাকা করা হচ্ছে! আর এফিডেভিটের স্ট্যাম্প শুল্কহার ১৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করার কথা খসড়ায় বলা হয়েছে!
বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের দাম ৫০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ! তাদের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শেয়ার বরাদ্দপত্রের স্ট্যাম্প শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা, ঋণপত্রের শুল্কহার ১৫০ টাকার বদলে ৩০০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্পের শুল্কহারও ১৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা ও আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের শুল্কহার এক হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বিভাগটি।
এ ছাড়া কাস্টমস বন্ডের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা ও এক হাজার টাকার স্ট্যাম্প শুল্ক বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া অ্যাসোসিয়েশনের সংঘস্মারকের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প শুল্ক হার এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা, চার হাজার থেকে আট হাজার টাকা এবং ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে! আর বন্ধকি চুক্তির ক্ষেত্রে পাঁচ টাকার স্ট্যাম্প শুল্ক ১০০ টাকা, ১০ টাকার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা, এক হাজার ৫০০ টাকার ক্ষেত্রে বেড়ে তিন হাজার টাকা, তিন হাজার ৫০০ টাকারটি বেড়ে সাত হাজার টাকা ও তিন হাজার ৫০০ টাকার বেশি মূল্যের স্ট্যাম্প শুল্ক বাড়িয়ে সাড়ে সাত হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে!
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রতিবেদনের মতে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের শুল্কহার দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে ৫০ থেকে বেড়ে ১০০ টাকা এবং ৪০০ থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা হবে।
আবুল কাশেমসরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম খাত হিসেবে চিহ্নিত হলেও পুরনো শুল্কহারের কারণে এত দিন কর-বহির্ভূত খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আহরণ হয়নি। ফলে ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়তে থাকে। অর্থনীতিবিষয়ক সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইকোনমিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে গবেষক, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টদের চলমান প্রাক বাজেট আলোচনায় কর-বহির্ভূত রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই স্ট্যাম্প আইন সংশোধন করে এসব শুল্কহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, কর-বহির্ভূত রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব শুল্কহার কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো নতুন দামের খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার কর-বহির্ভূত রাজস্ব খাত থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। এ জন্য স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯-এর স্ট্যাম্পের শুল্কহার সংশোধন করে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজ ন্য গত ১৭ জানুয়ারি এ বিভাগের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে আন্তমন্ত্রণালয় সভার পর গত ৩১ জানুয়ারি ও ৯ ফেব্রুয়ারি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সমন্বয়ে আরো দুটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এসব সভায় প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্ট্যাম্প শুল্কের তুলনামূলক বিবরণীর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ড এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধকি সম্পত্তি নিষ্পত্তি, বিক্রি বা হস্তান্তরের স্ট্যাম্প ফি এখন আছে তিন টাকা_এটি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে! প্রশাসনিক বন্ডের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা, ৮০ থেকে ২০০ টাকা করা হচ্ছে! আর এফিডেভিটের স্ট্যাম্প শুল্কহার ১৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করার কথা খসড়ায় বলা হয়েছে!
বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের দাম ৫০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ! তাদের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শেয়ার বরাদ্দপত্রের স্ট্যাম্প শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা, ঋণপত্রের শুল্কহার ১৫০ টাকার বদলে ৩০০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্পের শুল্কহারও ১৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা ও আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের শুল্কহার এক হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বিভাগটি।
এ ছাড়া কাস্টমস বন্ডের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা ও এক হাজার টাকার স্ট্যাম্প শুল্ক বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া অ্যাসোসিয়েশনের সংঘস্মারকের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প শুল্ক হার এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা, চার হাজার থেকে আট হাজার টাকা এবং ১০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে! আর বন্ধকি চুক্তির ক্ষেত্রে পাঁচ টাকার স্ট্যাম্প শুল্ক ১০০ টাকা, ১০ টাকার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা, এক হাজার ৫০০ টাকার ক্ষেত্রে বেড়ে তিন হাজার টাকা, তিন হাজার ৫০০ টাকারটি বেড়ে সাত হাজার টাকা ও তিন হাজার ৫০০ টাকার বেশি মূল্যের স্ট্যাম্প শুল্ক বাড়িয়ে সাড়ে সাত হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে!
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রতিবেদনের মতে, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের শুল্কহার দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে ৫০ থেকে বেড়ে ১০০ টাকা এবং ৪০০ থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা হবে।
শিল্প বাণিজ্য -এর আরো সংবাদ
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com








