ঢাকা, শুক্রবার ৪ মে ২০১২, ২১ বৈশাখ ১৪১৯, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৩৩
ফজলুর রহমান সুলতান, এ বি সিদ্দিকুর রহমান
¦
বিএনপিগৃহদাহ : সময়টা যাচ্ছে বাজে গফরগাঁও প্রতিনিধি
বর্তমানে বিভিন্ন ইস্যুতে সারা দেশে বিএনপি যখন চাঙ্গা গফরগাঁও উপজেলা বিএনপি তখন স্থবির। গত সাড়ে তিন বছর ধরেই গফরগাঁওয়ের বিএনপি ঢিমেতালে চলছে। দুই ভাগে বিভক্ত উপজেলা বিএনপির দুটি কার্যালয়ে গুটিকয়েক ফেস্টুন-ব্যানার ও কার্যালয়ের ভেতরে কয়েকটি দলীয় মিটিং ছাড়া কোথাও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো নয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দলটিতে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব, কমিটি নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বে কোন্দল, পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের দূরে রাখা, দলের কমিটি গঠনে সরকারী দল ও পুলিশের ভূমিকা ইত্যাদি কারণে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপি বাজে সময় অতিক্রম করছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ ফজলুর রহমান সুলতান। দলীয় মনোনয়নে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফজলুর রহমান সুলতানের অনুজ তৎকালীন চারদলীয় ঐক্যজোটের আহ্বায়ক ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ বি সিদ্দিকুর রহমান। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ বি সিদ্দিকুর রহমান নির্বাচনে নিজে দলবলে নিয়ে সক্রিয়ভাবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধাচারণ করেন। প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ফজলুর রহমান সুলতান দলীয় চেয়ারপারসন বরাবর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি এ বি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক এম আর খায়রুল, পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল হামিদ, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন চানুসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সরাসরি নির্বাচন করার লিখিত অভিযোগ দেন। উপজেলা বিএনপির বিভক্তির চূড়ান্ত রূপ নেয় গত উপজেলা ও পৌর বিএনপির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর পৌর শহরের আদর্শ শিশু নিকেতন মাঠে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক এমপি ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ফজলুর রহমান সুলতানসহ তাঁর অনুসারীদের পরিকল্পিতভাবে সব পর্যায়ের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। সালটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশসহ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের পাহারায় অনুষ্ঠিত বিএনপির এই সম্মেলনে বিগত নির্বাচনে যাঁরা নৌকার পক্ষে নির্বাচন করেছেন, তাঁদের নিয়েই উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপি নেতা মো. শাহজাহান অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতির পদে ফজলুর রহমান সুলতানকে হুমকি মনে করে বর্তমান জেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেনের নির্দেশে এই অপকর্ম ঘটানো হয়।
উপজেলা বিএনপির বিভাজিত রাজনীতির ফলে গফরগাঁওয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে যেমন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না, তেমনি দলীয় এবং জাতীয় কর্মসূচিগুলোও সংক্ষিপ্ত পরিসরে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে পালন করতে হচ্ছে। হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভ ও রোডমার্চসহ দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতে উপজেলা বিএনপি কিংবা সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীকে মাঠে দেখা যায় না। গত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির অন্তঃকোন্দল ও বিভাজন রাজনীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। গত ইউপি নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ উপজেলা বিএনপি মনোনীত অধিকাংশ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলার পদে বিএনপি সমর্থিতদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও মেয়র পদে পৌর বিএনপির সভাপতির জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গফরগাঁও উপজেলায় বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে দলটির হাল ধরেন প্রবীণ রাজনীতিক ফজলুর রহমান সুলতান। তাঁর হাতে ও তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত গফরগাঁওয়ে জাতীয়তাবাদী বিএনপি রাজনীতির মাঠে আস্তে আস্তে শক্তি সঞ্চয় করে সাংগঠনিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০০ সালে দলের ভেতরের একটি গ্রুপকে নিজের কবজায় নিয়ে গফরগাঁও উপজেলা বিএনপিতে বিভাজনের রাজনীতির জন্ম দেন তাঁরই সহোদর, অনুজ এ বি সিদ্দিকুর রহমান। ফলে পৌর এলাকায় মাত্র ৩০ গজের মধ্যে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের দুটি কার্যালয় রয়েছে। রাজনীতিতে যোগ দিয়েই এ বি সিদ্দিকুর রহমান ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজয় বরণ করেন। ২০০৭-এর বাতিল হওয়া নির্বাচনে এই আসনে চারদলীয় জোট প্রার্থী হন বিএমএর তৎকালীন সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ট ডা. (বর্তমানে প্রয়াত) এম এ হাদী। কিন্তু এ বি সিদ্দিকুর রহমান দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়ান। সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী হন ফজলুর রহমান সুলতান। ওই নির্বাচনে এ বি সিদ্দিকুর রহমান দলীয় প্রার্থীর শুধু বিরোধিতাই করেননি, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থীর বিপুল জয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তাও করেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের সময় তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীদের তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ওই সময়ে এ বি সিদ্দিকুর রহমানের অনুসারী উস্থি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ বি সিদ্দিকুর রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর কথা মতো কাজ না করলে ভবিষ্যতে দলীয় কোনো পদ দেবেন না বলে হুমকি দেন। যাঁরা তাঁর অন্যায় নির্দেশ অমান্য করে দলীয় প্রার্থী ফজলুর রহমান সুলতানের পক্ষে কাজ করেছেন, পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর ২০০৯-এর স্থানীয় কেজি স্কুল মাঠে কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত এ বি সিদ্দিকুর রহমানের উপজেলা বিএনপির কমিটিতে তাঁদের কোনো পদে রাখা হয়নি। এ বিষয়ে বর্তমান পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক বলেন, 'তিনি কাউকে এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। অন্তত আমাকে তিনি (এ বি সিদ্দিকুর রহমান) এ ধরনের নির্দেশ দেননি। এটা নিছক একটা অপবাদ। যাঁরা দলের ভালো চান না_তাঁরাই এই জাতীয় অপপ্রচার চালান।' এ বিষয়ে এ বি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'আমি কাউকেই নৌকার নির্বাচন করার নির্দেশ দেইনি। বরং আমার অনুসারী প্রতিটি নেতা-কর্মীকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। আমি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করি। জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি। এ ধরনের অন্যায় নির্দেশ আমি কেন দেব?' তিনি আরো বলেন, 'আমি দুঃসময়ে দলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলাম, আছি ভবিষ্যতেও থাকব। গত সাড়ে তিন বছর দলকে সংগঠিত রাখতে, নেতা-কর্মীদের ধরে রাখতে আমাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এমনও হয়েছে, পুলিশ নিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজন আমার বাড়িতে ও অফিসে হামলা করেছে। এর পরও আমি মাঠ ছাড়িনি। যাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটান, তাঁরা কোথায় ছিলেন? কাউকেই তো গত তিন বছর মাঠে দেখিনি।'
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৩৭৪৮২
পুরোনো সংখ্যা
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
free counters
Latest News Portal Food Recipe in Bangladesh jobs in Bangladesh