ঢাকা, রবিবার, ৭ আগষ্ট ২০১১, ২৩ শ্রাবণ ১৪১৮, ৬ রমজান ১৪৩২
* মানমন্দিরের ওপরভাগটা একদিক থেকে এ রকম ** এক হাজার ৯৮৩ ফুট উঁচু রয়েল মক্কা টাওয়ার *** ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়ামের ভেতরের একাংশ
¦
« পূর্ববর্তী সংবাদ
সময় যেখানে শুরুনাবিকদের কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছিল গ্রিনউইচ মানমন্দির। পরে এটিই হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারণকেন্দ্র। একে ধরা হয় পৃথিবীর শূন্য ডিগ্রি অবস্থানে। এখান থেকেই ভাগ করা হয়েছে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম। সময়ও হিসাব করা হয় এখান থেকেই। তৈরি হয়েছিল ১৬৭৫ সালের ১০ আগস্ট। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাদ্দু হাসান ও মামুন রশীদ
পনেরো শতকে কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন। তখন সমুদ্র ভ্রমণে নাবিকদের হাতে কি থাকত জানেন? শুধু উত্তর-দক্ষিণ দিকনির্দেশক, মানে অক্ষাংশ জানতেন তাঁরা। তবে সমুদ্রে ভ্রমণের জন্য জানা থাকা চাই দ্রাঘিমাংশটাও। দ্রাঘিমাংশের মাধ্যমে পৃথিবীর মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব-পশ্চিমে নিজের অবস্থান জেনে নেওয়া যায়। দ্রাঘিমাংশ না জানার কারণে তখন নাবিকদের বেশ বেগ পোহাতে হতো। কখনো মুখোমুখি হতে হতো ভয়ংকর পরিস্থিতির। কখনো ভ্রমণ হয়ে যেত দীর্ঘতর। দীর্ঘ ভ্রমণে খাবার ও পানির সংকট হতো। এই পূর্ব-পশ্চিম না জানার কারণে কত নাবিকের সলিলসমাধি হয়েছে তার হিসাব ছিল না।
এ সমস্যা সমাধানে ১৬৭৫ সালে রাজা দ্বিতীয় চার্লস লন্ডনের গ্রিনউইচে একটি মানমন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। একটা নকশা করে ফেলেন স্যার ক্রিস্টোফার রেন। কথিত আছে, মানমন্দিরটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল ৫০০ পাউন্ডেরও বেশি। তবে খরচ কমানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল। ব্যবহার করা হয়েছিল পুরনো ইট। গভীর সমুদ্রে সঠিক পথ ও অবস্থান নিশ্চিত করতে তৈরি হয়ে যায় মানমন্দির। প্রথম জ্যোতির্বিদ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জন ফ্ল্যামস্টিড। তখন থেকেই মোটামুটিভাবে শুরু হয়ে গিয়েছিল মানমন্দিরের কার্যক্রম। কিন্তু এর পরও সব সমস্যার সমাধান হয়নি। দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
১৭০৭ সালটা নাবিকদের জন্য দুর্যোগের বছর হয়ে উঠেছিল। সে বছর সমুদ্রে মারা পড়েছিল দুই হাজারেরও বেশি নাবিক। ফলে মানমন্দিরের কাজ আরো নির্ভরযোগ্য করার প্রয়োজন হয়। ১৭১৪ সালে গড়ে তোলা হয় একটি দক্ষ পরিচালনা কমিটি_'দ্য বোর্ড অফ লঙ্গিটিউড।' ঘোষণা করা হয়, যিনি সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি বের করতে পারবেন তিনি পাবেন ২০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার। আজকের দিনে যা ২০ লাখ পাউন্ড বা তারও বেশি। পুরস্কার ঘোষণা করলেও কোনো বিজ্ঞানী নির্ণয় পদ্ধতি বের করতে পারেননি। এক বছর, দুই বছর নয়, এক যুগও নয়, দীর্ঘ ষাট বছর পর একজন এই পুরস্কারের দাবিদার হয়েছিলেন। তবে কোনো বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ বিজ্ঞানী বা গণিতজ্ঞ নন, শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জিতে নিলেছিলেন কিনা ইয়র্কশায়ারের একজন সাধারণ ছুতার মিস্ত্রি_জন হ্যারিসন। সমুদ্রে অবস্থান জানার ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন আনল হ্যারিসনের এইচ ফোর। বর্তমানে মন্দির গ্যালারির প্রধান আকর্ষণ হ্যারিসনের উদ্ভাবনী এই টাইম কিপার।
এরপর পৃথিবীর দ্রাঘিমাংশ কোথা থেকে মাপা শুরু হবে, তা জানা জরুরি হয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রাইম মেরিডিয়ান, অর্থাৎ দ্রাঘিমাংশ যেখানে শূন্য, কোথা থেকে গণনা শুরু হবে। সমাধান দিলেন জ্যোতির্বিদ জর্জ বিডেল অ্যারি। ১৮৫০ সালে তৈরি করলেন একটি বৃহদাকার টেলিস্কোপ_'ট্রানজিট সার্কল'। গ্রিনউইচ মানমন্দিরের অবস্থানের দ্রাঘিমাংশ শূন্য ধরে নির্ধারণ করা হলো পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম। এর ১৫ ডিগ্রি পূর্বে যদি দুপুর ১টা হয় তবে ১৫ ডিগ্রি পশ্চিমে সকাল ১১টা বাজবে। সে হিসাবে পশ্চিমে দিকে গেলে সময় কমবে এব পূর্ব দিকে বাড়বে। গ্রিক শব্দ লেমডা দিয়ে দ্রাঘিমাংশ বোঝানো হয়। ডিগ্রি মিনিট সেকেন্ড দিয়ে এটি নির্দেশিত হয়। ঢাকার দ্রাঘিমাংশ ৯০্ন ২২' ৩০" পূর্ব। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ নির্ধারিত হয় অক্ষাংশের মাধ্যমে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গ্রিনউইচ মানমন্দিরের সময় গণনা গোটা পৃথিবীতে সাড়া ফেলেছিল। তখন থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সময় গণনা হতে থাকে প্রাইম মেরিডিয়ানের ওপর ভিত্তি করে। নির্ধারণ করা হলো একটি আন্তর্জাতিক সময়। এর আগে প্রতিটি দেশ ও শহর নিজেদের আঞ্চলিক সময় মেনে চলছিল। শুধু এটাই নয়, এর আগে কখন দিনের শুরু বা শেষ, কতক্ষণে এক ঘণ্টা ধরা হবে বা হওয়া উচিত_মোট কথা কিভাবে সময় নির্ধারণ করা যায় এ নিয়ে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো সম্মেলনও হয়নি। উনিশ শতকে এসে যোগাযোগব্যবস্থারও বেশ উন্নতি হয়েছিল। রেলওয়ে যোগাযোগের বিস্তৃতির কারণেও বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সময় নিরিখ গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে পৃথিবীর সময়শূন্য স্থান যে গ্রিনউইচ মানমন্দির, তা মেনে নেওয়া হয়েছিল ১৮৮৪ সালে। সে বছর ওয়াশিংটনে হয়েছিল 'ইন্টারন্যাশনাল মেরিডিয়ান কনফারেন্স'। এতে অংশ নিয়েছিলেন ২৫ জাতির ৪১ জন প্রতিনিধি। ২২ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছিল গ্রিনউইচ। জয়ের পেছনে কারণ ছিল দুটি_এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় টাইম জোন সিস্টেম হিসেবে বেছে নিয়েছিল গ্রিনউইচ। দ্বিতীয়ত, যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বের ৭২ শতাংশ বাণিজ্য নির্ভরশীল ছিল গ্রিনউইচের দেওয়া সামুদ্রিক নির্দেশপত্রের ওপর। এরপর থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান হয়ে ওঠে পৃথিবীর সময়ের মূলকেন্দ্র। এখান থেকেই এক একটি নতুন দিন, বছর বা শতকের শুরু হয়।
১৯৯৭ সালে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে অন্তর্ভুক্ত হয় এই মন্দির। ২০০৭ সালে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে সংস্কার করা হয় এর।
বর্তমানে মন্দিরটি বৃটেনের 'ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়াম'-এর একটি অংশ। গ্রিনউইচ পার্কের সবচেয়ে উঁচু স্থানে অবস্থিত মন্দিরটি দর্শনার্থীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থান।
« পূর্ববর্তী সংবাদ
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৩৯৭৭
পুরোনো সংখ্যা
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com
free counters
Latest News Portal Food Recipe in Bangladesh jobs in Bangladesh